সাকিবের এলবি আবেদনটি ১০ বার রিপ্লে দেখে নতুন করে যে তথ্য দিলেন অস্ট্রেলিয়ান আম্পায়ার

Sabbir Rahman 0

হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া কেউ জানেনা যে আমি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ডের লেভেল-টু সার্টিফাইড প্রফেশনাল আম্পায়ার। অস্ট্রেলিয়ায় চার বছরের ক্যারিয়ারের শেষ দুই বছর A-গ্রেড টুর্নামেন্টে আম্পায়ারিং করেছি প্রায় ত্রিশটি ম্যাচে।

মাঠের মাঝখানে খেলোয়াড় আর আম্পায়ারের সাইকি সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারনা আছে। কিন্তু বিষয় সেটা না। বিষয়টা সাকিব আর তার আজকের রেসপন্স।

সে স্টাম্পে একবার লাথি মেরেছে আরেকবার স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলেছে এইটুকু নিঃসন্দেহে স্পিরিট অফ ক্রিকেটের পরিপন্থি। কিন্তু, এইখানে আরেকটা কিন্তু আছে…

দশবারের মত আমি সাকিবের এলবির আবেদনটার রিপ্লে দেখেছি। আমার মনে হয়েছে এটা অলমোস্ট ‘প্লাম্ব’ (মানে ‘খাঁড়ার উপ্রে’ আউট) ডিসিশন হওয়ার কথা। তারপরও একজন আম্পায়ারের তরফে একটি এলবিডব্লিউ আবেদন নাকচ করার অনেক কারন থাকতে পারে।

কিন্তু… এখানেই সবচেয়ে বড় ‘কিন্তু’-টা লুকিয়ে আছে। সাধারনত একজন আম্পায়ার এলবির ক্ষেত্রে কোজ আবেদন নাকচ করার আগে কিছুক্ষন সময় নেন, নিজের মাথার ভিতরে সেটার এক ধরনের রিপ্লে এবং রিভিউ করেন, তারপর ডিসিশন দেন। এট লিস্ট জেনুয়িন কেসে এরকমই হওয়ার কথা।

কিন্তু সাকিবের আবেদনের বেলায় ফ্রেকশন অফ সেকেন্ডের কম সময়ের মধ্যে আম্পায়ার যেভাবে আবেদনটি নাকচ করেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রি-মেডিটেটেড মনে হয়েছে। বিপক্ষ দলের (বিশেষ করে ক্যাপ্টেন আর বোলারের) জন্য এটা মেনে নেয়া অনেক কঠিন।

তার উপর যখন ব্যাটসম্যানটি মুশফিকুর রহিম আর ব্যাটিং টিম পাঁচ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে। কিন্তু এতে করে কি আম্পায়ারের কোন ইল মোটিভের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়? না, যায়না। তবে…

ছয় ওভার হতে এক বল বাকী, এই অবস্থায় ক্রিকেটিয় আইন অনুসারে একজন আম্পায়ার স্ব-প্রনোদিত হয়ে খেলা বন্ধ করার একমাত্র, এবং একমাত্র কারন যদি এই এক বল খেলতে দিলে যদি কোন খেলোয়ার বা ম্যাচ অফিসিয়ালের মারাত্তক ইনজুরি হওয়ার লেজিটিমেট রিস্ক থাকে।

কিন্তু ব্যাটসম্যান-বোলার-ফিল্ডার সহ সবাই গার্ড নিয়ে প্রস্তুত, বৃষ্টির অবস্থা খুব খারাপ বলে দেখা যাচ্ছেনা, উপরন্তু এই একটা বল খেলা হলেই ডার্কওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে খেলার রেজাল্ট বদলে যেতে পারে, এই অবস্থায় আম্পায়ার শো-স্টপার হিসেবে যে খেলাটা দেখালো, সেটা একজন সাবেক আম্পায়ার হিসেবে আমার কাছে অবিশ্বাস্য ঠেকেছে।

এবার কি কিছু বোঝা গেল? হ্যাঁ, আমার মনেহয় তাতে সাকিবের ক্ষোভের কারনটা কিছুটা বোঝা গেল। আপনি জাতীয় পর্যায়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করে দিনে-দুপুরে জোচ্চুরির মচ্ছব লাগিয়ে দিলে (অন্তত সেরকমটা প্রতীয়মান হলে) সাকিবের মত রগচটা মানুষের রাগ চরমে পোঁছাতেই পারে।

তাই, সর্বোপরি ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সাকিবের আচরন সমর্থন করতে না পারলেও একটা বিশাল অর্গানাইজড ক্রাইম সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদকে মানবীয় দৃষ্টিকোন থেকে সমর্থন করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.