সাড়ে ৩ কোটি টাকার গাড়ির উপহার, বিনিময়ে তার সঙ্গে দুবাই ভ্রমণে যান পরীমনি

গ্রেফতার হওয়ার পর চিত্রনায়িকা পরীমণির বিষয়ে একে একে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য বের হয়ে আসছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে।

সিনেমায় অভিনয়ের আড়ালে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়া, মাদক গ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এসব তথ্যের মধ্যে পরীমণির ব্যবহৃত ফিয়াট অটোমোবাইলসের ‘মাসেরাতি’ ব্র্যান্ডের গাড়িটি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

সাড়ে তিন কোটি টাকার গাড়িটি পরীমণিকে কে উপহার দিয়েছেন, সে বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। যদিও পরীমণির ওই গাড়ি কেনার বিষয়ে বরাবর আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন। বলেছেন, তিনি গাড়িটি ব্যাংক লোন নিয়ে কিনেছেন।

গত ৪ আগস্ট নিজ বাসা থেকে মাদকসহ গ্রেফতার করা হয় পরীমণিকে। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, পরীমণি গাড়িটি ব্যাংক লোন অথবা ক্যাশ টাকা দিয়ে কেনননি। দেশের একটি বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

ওই সম্পর্কের ভিত্তিতে পরীমণি তার কাছ থেকে গাড়িটি উপহার হিসেবে পেয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে পরীমণি জানিয়েছে, ওই কর্মকর্তার সঙ্গে তার বিশেষ সখ্য রয়েছে। করোনার মধ্যেই ওই ব্যক্তির সঙ্গে দুবাই ভ্রমণে যান তিনি।

সূত্র আরও জানায়, পরীমণির সঙ্গে সম্পর্ক থাকা ওই ব্যাংক চেয়ারম্যানের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তিনিও নজরদারিতে রয়েছেন। এছাড়া ওই ব্যাংকে পরীমণির বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

সেগুলো ইতোমধ্যে ফ্রিজ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। র‌্যাবের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারের পর পরীমণির মোবাইল ফোনটি তারা পরীক্ষা করে দেখেছেন।

সেখানে অনেক ভিআইপি ব্যক্তি ও শিল্পপতিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও বিশেষ সম্পর্ক থাকার অনেক তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। অনেকের সঙ্গে তার নিয়মিত কথোপকথনের প্রমাণও পাওয়া গেছে।

এসব ব্যক্তিরা সমাজের উঁচু স্তরের। তাদের বিষয়েও খোঁজ-খবর করা হচ্ছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরীমণির সঙ্গে অনেক ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।

এছাড়া অনেক রাজনীতিকের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল তার। আন্ডারওয়ার্ল্ডের অনেক সন্ত্রাসীকে অর্থের বিনিময়ে ‘বিশেষ সঙ্গ’ দিতেন তিনি। একটি সূত্র জানায়, প্রবীণ এক রাজনীতিকের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন তিনি। কথিত প্রযোজক নজরুল রাজ তাকে ওই রাজনীতিকের বাসায় নিয়ে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল কে এম আজাদ বলেন, পরীমণি ও রাজের বিষয়ে আমরা অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছি। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, পরীমণি ও রাজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা দুটি তদন্ত করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করবে র‌্যাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.