চাকরি হারানোর ভয়ে ৩০ কিলোমিটার হেঁটে ঢাকার পথে

আইনুল খাতুন অফিস পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার (আয়ার) কাজ করেন রাজধানীর পুরান ঢাকার একটি মোমবাতির কারখানায়। কারখানার ম্যানেজার ফোন করে জানিয়েছেন আগামীকাল কারখানা খোলা তাই আজকেই চলে যেতে হবে।

বরিশালের মূলাদী থেকে রওয়ানা দিয়ে কিছু পথ ভ্যান গাড়ীতে, কিছু রিক্সায় করে শরীয়তপূর পর্যন্ত এসেছিলেন। শরিয়তপুর থেকে কোনো যানবাহন না পেয়ে পাঁয়ে হেটে ৩০ কিলেমিটার পথ অতিক্রম করে এসেছেন কাঁঠালবাড়ি ঘাটে।

আজ শনিবার (৩১ জুলাই) মাওয়া ঘাটে হাজার হাজার মানুষের ঢল নেমে এসেছে। যখনই ফেরি ঘাটে এসে পৌঁছাচ্ছে ফেরি থেকে হাজার হাজার মানুষ নামতে দেখা যায়। একদিক দিয়ে লকডাউন,

অন্যদিকে যানবাহন বন্ধ থাকায় কোনো উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়েই পাঁয়ে হেটে রওয়ানা দিয়েছেন গন্তব্যস্থলে। আইনুল খাতুন জানান, কাঁঠালবাড়ি ঘাটে এসে ফেরিতে করে মাওয়া ঘাটে আসলাম। এখানে এসে দেখি কোনো গাড়ি নেই, সবাই হাঁটছে।

কীভাবে বাসায় যাবো তাও জানি না। গাড়ি না পেলে পাঁয়ে হেঁটেই বাসায় যেতে হবে। কারণ বাসায় না গেলে যে কাল থেকে অফিসে যেতে পারবো না। অফিসে না গেলে খাবো কি? কে খাওয়াবে আমাকে?

এছাড়াও, রাজু মিয়া রাজধানীর একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। তার গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের ডামুড্যা থাানায়। তিনি কোনো পরিবহন না পেয়ে সকাল থেকে পাঁয়ে হেটে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে এসে ফেরিতে করে মাওয়া ঘাটে এসে নেমেছেন।

তিনি জানান, গতকালকে আমাদেরকে মোবাইলে জানানো হয়েছে আগামীকাল (১ আগষ্ট) থেকে অফিস খুলে দেওয়া হবে। আমরা যেন ১ তারিখে অফিসে এসে অফিস করি। আজকে ঢাকায় রওয়ানা দিয়ে রাস্তায় কোনো গাড়ি পাইনি।

তাই বাধ্য হয়েই পাঁয়ে হাঁটা শুরু করেছি। সামনে যদি কোনো যানবাহন না পাই তাহলে পাঁয়ে হেঁটেই যেতে হবে। এছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। আবুল মিয়া জানান, কঠোর এই লকডাউনের মধ্যে আমাদের কারখানা খুলে দিয়ে একরকম তামাশা শুরু করেছে।

কারণ এই লকডাউনে কোনো যানবাহন নেই আমরা কিভাবে ঢাকায় পৌঁছাবো? আমাদের সাথে এমন তামাশার কোনো মানে হয় না। হয়তো লকডাউন ছেড়ে দিয়ে যানবাহন চালু করুক। না হয় একেবারে কল-কারখানাগুলো বন্ধ করে রাখুক।

কর্মস্থলে ফেরা এসব যাত্রীরা বলছেন, আমরা যখন ঈদে বাড়ি ফিরছিলাম তখন আমাদের বলেছিলো লকডাউন খুলে দিলে কল-কারখানা খুলে দেওয়া হবে। এ কয়েকদিন যেন আমরা যেখানে আছি সেখানেই নিরাপদে থাকি।

কিন্তু কঠোর লকডাউনের মধ্যে কল-কারখানাগুলো খুলে দিয়ে আমাদের সাথে তামাশা শুরু করেছে। গণপরিবহন বন্ধ আমরা কীভাবে ঢাকায় যাবো? কল-কারখানা খুলে দেওয়ার ঘোষণার পর আজ (শনিবার)

সকাল থেকে ফেরি চলাচল করায় দক্ষিণ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ ফেরিতে করে মাওয়া ঘাটে এসেছে। গণপরিবহন না থাকায় পাঁয়ে হেঁটেই সবাই গন্তব্যস্থলে রওয়ানা দিয়েছে। কিছুক্ষণ পর পর বিশ্রাম নিয়ে আবার হাঁটা শুরু করেছে অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *