ফার্মেসি থেকে যাত্রা শুরু করে ১০,০০০কোটি টাকার স্কয়ার গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেছেন স্যামসন চৌধুরী!

স্বপ্ন আর চেষ্টায় বড় হওয়ার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্যামসন এইচ চৌধুরী। নিজের লক্ষ্যে স্থির থাকার অদম্য স্পৃহা তার প্রতিষ্ঠিত স্কয়ার শুধু দেশসেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবেই গড়ে তোলেননি, পণ্যমানে জয় করেছে বিশ্ব ক্রেতার মনও।

তাকে নিয়ে লিখেছেন আশরাফুল হক——————– জন্ম নিয়েছিলেন হাসপাতালের আউটডোর ডিসপেনসারির মেডিকেল অফিসার ইয়াকুব হোসেন চৌধুরীর ঘরে। মা লতিকা চৌধুরীর ঘরে নিয়মকানুনের মধ্যে বড় হতে থাকেন তিনি।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বপ্নের গন্ডিও বাড়তে থাকে। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণে বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন নেভিতে। চাকরি করেছেন সরকারি ডাক বিভাগেও।

বাস্তবের কঠোরতা কখনো হার মানাতে পারেনি তার অদম্য ভাবনা ও প্রবল ইচ্ছাশক্তিকে। চাকরি ছেড়ে ফিরে আসেন ১৯৫২ সালে। বাবার ছোট্ট ফার্মেসিতে বসে বড় ব্যবসার স্বপ্ন দেখতে থাকে তার ক্ষুধাতুর দুই চোখ।

তারপর শুরু হয় তার সফল উদ্যোক্তা হয়ে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার গল্প, স্বপ্নের পর স্বপ্ন সাজিয়ে গড়ে তোলেন আজকের স্কয়ার গ্রুপ।ছেলেবেলা কেটেছে বারবার ঠিকানা বদলের মধ্য দিয়ে। বাবার চাকরির সূত্রে পড়তে হয়েছে এক স্কুল থেকে অন্য স্কুলে।

কখনো উন্নত ও আধুনিক শিক্ষার সন্ধানে পরিবারের ইচ্ছায়ও যেতে হয়েছে এক স্কুল থেকে অন্য স্কুলে। কৈশোরেই পুরো স্বপ্নচারী হয়ে ওঠেন স্যামসন এইচ চৌধুরী। বাবার বদলি চাঁদপুর মিশন হাসপাতালে হওয়ায় শিশু স্যামসনের স্কুলজীবন শুরু হয়েছিল চাঁদপুর মিশন স্কুলে।

কয়েক বছর পরেই চাঁদপুর থেকে পাবনায় বদলি হন তার বাবা, সঙ্গে স্কুলও বদল হয় শিশু স্যামসনের। ভর্তি হন আতাইকুলায় এক গ্রাম্য স্কুলে। এক বছরের মাথায় উন্নত শিক্ষার খোঁজে বাবা-মা তাকে পাঠান ময়মনসিংহের ভিক্টোরিয়া মিশন স্কুলে।

সেখানে দুই বছর পড়াশোনার পর ১৯৩৫ সালে কলকাতা চলে যায় তার পরিবার। তখন স্যামসন ভর্তি হন বিষ্ণুপুরে শিক্ষাসংঘ হাইস্কুলে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিরাপত্তার কারণে ১৯৪২ সালে নিজ গ্রামে ফেরে স্যামসনের পরিবার।

আতাইকুলা হাইস্কুলে নতুন করে ভর্তি হন। সেখান থেকেই ১৯৪৩ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। বয়স তখন মোটে ১৭, স্বপ্ন দেখতেন ভালো কিছু করার, দেশের মানুষের সেবা করার। সেই স্বপ্ন থেকেই কাউকে কিছু না বলে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে বাড়ি ছাড়েন, আশ্রয় নেন কলকাতার এক আত্মীয়র বাসায়।

কদিন পরই সেখান থেকে বেরিয়ে পড়েন ভবিষ্যতের সন্ধানে। বড় শহর মুম্বাইয়ে নোঙর ফেলে করতে থাকেন চাকরির সন্ধান। সেখানেই সুযোগ হয় নৌবাহিনীতে পরীক্ষা দেওয়ার, কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করে চাকরিতে যোগ দেন তিনি।

দায়িত্ব পান সিগন্যাল বিভাগে। আবেদন করলেন ‘রাডার অপারেটর’ হওয়ার। অন্য কোথাও কাজ করতে নারাজ তিনি। অদম্য ইচ্ছা, আপসহীন মানসিকতা আর একরোখা জেদের কারণে চার দিন জেলে থাকতে হলো তাকে।

চার দিনের প্রতিদিন সকালে ঊর্ধ্বতনরা এসে স্যামসনকে প্রশ্ন করতেন, অন্য কোথাও কাজ করবে কি না, অনড় থাকলেন স্যামসন। তার ইচ্ছার কাছে হেরে পঞ্চম দিনে রাডার বিভাগে নিয়োগ দিতে বাধ্য হলো। নৌবাহিনীতে তিন বছরের চাকরি জীবনে কিছু সহকর্মীর সঙ্গে তিনি ফেরেন মাদ্রাজের বিশাখাপত্তম বন্দরে। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে নৌ-বিদ্রোহে যোগ দিয়ে ফের পাঁচ দিনের কারাবাস ভোগ করতে হয় স্যামসনকে। পরে স্যামসনকে সরকারের অন্য কোনো দপ্তরে নিয়োগের সুপারিশ করে নৌবাহিনী। তাতে রাজি না হয়ে ১৯৪৭ সালে চাকরি ছেড়ে বাড়ি ফেরেন পলাতক ছেলেটি। নতুন চাকরি নিয়ে যোগ দেন সরকারের ডাক বিভাগে।

২২ বছর বয়সে ১৫ বছরের কিশোরী অনীতা চৌধুরীকে বিয়ে করেন স্যামসন। তাদের তিন ছেলে-এক মেয়ে— অঞ্জন চৌধুরী, তপন চৌধুরী, স্যামুয়েল চৌধুরী ও রত্না পাত্র। ১৯৫২ সালে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিয়ে ফিরে আসেন বাড়িতে। তখন থেকে বাবার ইচ্ছায় নিজেদের ডিসপেনসারিতে বসতে শুরু করেন, হাতেখড়ি হতে থাকে ব্যবসার। স্বপ্নচারী স্যামসন একটি ওষুধ কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিলেন। স্বপ্নপূরণে বাবার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ঋণ নিলেন ১৯৫৬ সালে। কারখানা গড়ে তোলেন, নাম দেন ই-সনস (ইয়াকুব হোসেন অ্যান্ড সনস)। সিরাপ উৎপাদন শুরুর মধ্যে বড় ব্যবসায়ী হওয়ার পথে প্রথম পা রাখেন স্যামসন। দুহাতে একাই করতেন মালিক, শ্রমিক, পরিবেশক ও বাজারে পৌঁছানোর কাজ। একমাত্র সহযোগী ছিলেন স্ত্রী অনীতা।

……………………

১৯৫৮ সালে তিন বন্ধু মিলে স্কয়ার প্রতিষ্ঠা করেন। এর পেছনেও কাজ করেছে স্যামসনের দূরদর্শী ভাবনা। দেশ ভাগের আগে পাবনায় একজন ফার্মাসিস্ট ছিলেন, যিনি ম্যালেরিয়ার ওষুধ তৈরি করতেন। দেশভাগের সময় তিনি ভারতে চলে গেলে তার ফার্মেসি একজনে কিনে নিয়ে ‘এডরুক’ নামে পরিচালনা শুরু করেন। এটি দেখে কোম্পানি করার ভাবনা মাথায় আসে স্যামসনের। শুরুতে বন্ধু ডা. কাজী হারুনার রশিদের সঙ্গে আলাপ করে তাকে অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দিলেন, রাজি হলেন বন্ধু। যুক্তফ্রন্ট সরকারের আমলে উদ্যমী স্বভাবের স্বপ্নবাজ যুবক স্যামসন চৌধুরী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ধীরেন দত্তের কাছে গেলেন একটি আবদার নিয়ে। চাইলেন ওষুধ কারখানা স্থাপনের লাইসেন্স এবং পেয়েও গেলেন। পরে কাজী হারুনার রশিদসহ আরও দুই বন্ধু ডা. পি কে সাহা ও রাধা বিনোদ রায়কে সঙ্গে নিয়ে চারদ-ের ওপর গড়ে উঠল নতুন কোম্পানি ‘স্কয়ার’।

চারজন অংশীদারের সমান মালিকানায় শুরু হয় স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের কর্মযজ্ঞ। স্কয়ারের নামকরণ প্রসঙ্গে স্যামসন চৌধুরী বলেছিলেন, ‘এটি চার বন্ধুর প্রতিষ্ঠান। তা ছাড়া আমাদের চার হাত সমান। এর লোগোও তাই বর্গাকৃতির।’ আর এ কারণেই এই কোম্পানির নাম স্কয়ার। যাত্রাকালে স্কয়ারের পুঁজি ছিল মোটে ১৭ হাজার টাকা। পরে প্রত্যেকে ২০ হাজার টাকা করে ৮০ হাজার টাকা লগ্নি করেন এতে। তিন বছর লোকসানে শাখা কোম্পানিটি প্রথম লাভের মুখ দেখে চতুর্থ বছরে গিয়ে। ১৯৬২ সালে ঢাকায় কোম্পানির প্রথম শাখা অফিস হলো। ইটের পর ইট গেঁথে যেভাবে বড় অট্টালিকা নির্মাণ হয়, সেভাবেই নানা বাধাবিপত্তি পেরিয়ে এগোতে থাকে স্কয়ার। সেই স্কয়ার এখন দেশের ওষুধ খাতের আইকন। স্কয়ারকে তিনি এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছেন যে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে রপ্তানির তালিকায়ও শীর্ষে উঠে এসেছে।

এরই মধ্যে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকেই স্যামসন এইচ চৌধুরী তার সন্তানদের যুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছিলেন। সে সময় তিনি নিজে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের পক্ষে সহযোগিতা আনার জন্য তৎপর ছিলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গঠনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সে সময় ভারতে রিলিফ ক্যাম্পে খাদ্য সরবরাহ করেছেন স্যামসন। বিদেশি সাংবাদিকদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেছেন। মুক্তিযুদ্ধের পর দেশ গঠনে সিসিডিবি গঠন, আরিচা-ভোলা-পটুয়াখালী-বরিশালের মৎস্যজীবীদের জাল, নৌকা, কোল্ড স্টোর প্রদান, মহেশখালীতে সাগর মৎস্যজীবী, নরসিংদীতে তাঁতিদের পুনর্বাসন, রাজশাহীতে ১২ মিলিয়ন ডলারের কৃষি প্রকল্প, বাংলাদেশ সরকারকে দূরপাল্লার ওয়াকিটকি ও বার্জ প্রদান এবং বরিশাল ও গোপালগঞ্জে ২ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারের ইপি প্রকল্প প্রণয়ন এসব অবদানের জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

ব্যবসা মানেই মুনাফা এ ধারণাকে অনেকটাই ভুল প্রমাণ করেছে স্যামসন এইচ চৌধুরীর নেতৃত্বে স্কয়ার গ্রুপ। এ কথার সঙ্গে দ্বিমত তার চরম প্রতিপক্ষও করবেন না। ‘আমার কাছে কোয়ালিটিই সবার আগে। সব পর্যায়েই আমরা কোয়ালিটি নিশ্চিত করি।’ বলতেন কোয়ালিটিম্যান স্যামসন চৌধুরী। তার প্রমাণও রেখে গেছেন স্কয়ার ব্র্যান্ডিংয়ের সব পণ্য আর সেবায় এই কর্মবীর। তার এই গুণের বলেই ১৯৫৮ সালের সেই ছোট উদ্যোগ বিশাল গ্রুপে পরিণত হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে বিশালত্বের পথে পা ফেলে স্কয়ার। ওই বছর কয়েকটি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে স্কয়ারকে সম্পূর্ণ আধুনিক রূপ দিলেন স্যামসন চৌধুরী। তৈরি হতে থাকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ওষুধ। ১৯৮৭ সালে স্কয়ার প্রথম তাদের তৈরি ওষুধ বিদেশে রপ্তানি করে।
..
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে কোম্পানিটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে বাজারে শেয়ার ছাড়ে। ব্যবসার গ-ি বাড়তে থাকে স্কয়ারের। অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে ব্যবসা বড় করতে গিয়ে মানে কখনো চুল পরিমাণ ছাড় দেননি স্যামসন। ১৯৯৬ সালে স্কয়ার ফার্মার একটি অ্যান্টি অ্যালার্জিক ওষুধ বাজারে বেশ জনপ্রিয় ছিল। স্যামসন এইচ চৌধুরী ওই সময়ে আমেরিকা সফরের একপর্যায়ে সেখানে একটি মেডিকেল জার্নালে ওই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে কর্মকর্তাদের দ্রুত ওষুধটির উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধের পাশাপাশি মজুদ সমুদয় কাঁচামাল ধ্বংসের নির্দেশ দেন। সে সময় কোম্পানিতে কয়েক লাখ টাকার কাঁচামাল মজুদ ছিল। তার নির্দেশ পেয়ে কোম্পানির কর্মকর্তারা সমুদয় কাঁচামাল ধ্বংস করেন এবং ওষুধটি বাজার থেকে তুলে নেন।

তার অতি ঘনিষ্ঠজন লেখক ড. ডেনিস দিলীপ দত্ত বলেন, ৪০ বছর আগে আমি যখন তার কাছ থেকে চার্চের সেবা কাজের দায়িত্বগুলো ক্রমে ক্রমে গ্রহণ করছিলাম, তখন তিনি জন এফ কেনেডির একটি ঐতিহাসিক উদ্ধৃতি দিয়ে আমাকে ও আমাদের অনুপ্রাণিত করেছেন Ñ সেবাদানের মাধ্যমে দেশ ও দশের কল্যাণমূলক কার্যসূচি গ্রহণ করতে। তিনি তার কর্মচারীদেরও বঞ্চিত করেননি। জীবিত থাকতে ৩৩ হাজার কর্মচারীর জন্য প্রতিদিন দুপুরের খাবার, ভাতা, আকর্ষণীয় বোনাস চালু করে দিয়ে গেছেন, যা এখনো বহাল আছে। তিনি তাদের সমস্যার কথা শুনতেন, চাহিদাগুলো পূরণ করতেন। তাই তারা কখনো ধর্মঘট করেননি।

ব্যবসা ও বিপণনে সাফল্যের জন্য কোনো বিশেষ কৌশল প্রসঙ্গে স্যামসন চৌধুরী বলতেন, ‘আমি সব সময় স্বপ্ন দেখেছি বিশ্বের নামিদামি ওষুধ কোম্পানির আদলে গড়ে উঠুক স্কয়ার; যেখানে নিয়মিত গবেষণা হবে, উন্নয়ন হবে, কঠোরভাবে মান নিয়ন্ত্রণ থাকবে সব পর্যায়ে। এখানে প্রায় ৮০ শতাংশই হোয়াইট-কলার জব। তাদের সবাই গুণ-মান বজায় রাখার ব্যাপারে সচেষ্ট, প্রশিক্ষিত। আমরা একটা পদ্ধতির উদ্ভাবন করেছি। আমাদের ওষুধের কোয়ালিটি আজ দেশে-বিদেশে স্বীকৃত। ডাক্তাররা অবিচল আস্থার সঙ্গে আমাদের ওষুধ প্রয়োগ করেন। পৃথিবীর ৫০টি দেশে আমাদের ওষুধ যাচ্ছে।’

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে সাফল্যের পর ব্যবসা বাড়াতে মনোনিবেশ করেন স্যামসন। ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘স্কয়ার টয়লেট্রিস’। ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন স্কয়ার টেক্সটাইল লিমিটেড। এর কয়েক বছর পর স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ‘অ্যাগ্রো কেমিক্যালস ভেটেরিনারি’ ইউনিট খোলা হয়। স্যামসন চৌধুরীর ব্যবসায়িক দক্ষতায় কয়েক বছরের মধ্যেই একে একে যাত্রা শুরু করে স্কয়ার স্পিনিং লিমিটেড, স্কয়ার নিট ফেব্রিকস লিমিটেড, স্কয়ার ফ্যাশন লিমিটেড, স্কয়ার কনজিউমার প্রডাক্ট লিমিটেড, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, স্কয়ার ইনফরমেটিকস এবং স্কয়ার হাসপাতালের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠান। তিনি কখনো ঋণখেলাপি ছিলেন না। পুঁজিবাজারে কোনো নয়ছয় করেননি। তার প্রতিষ্ঠানে তিনি ছিলেন অজাতশশ্রু ও দানবীর।

অসংখ্য ছাত্র, দরিদ্র, অনাথ তার সহানুভূতি পেয়ে নতুন জীবন পেয়েছে। পাবনায় অনীতা-স্যামসন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দরিদ্র মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বিনা মূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদানের স্থায়ী ব্যবস্থা করে গেছেন তিনি। জীবদ্দশায় স্যামসন চৌধুরী অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং তার কীর্তির জন্য বহু পুরস্কার ও স্বীকৃতি পেয়েছেন। ২০০৭ ও ০৮ সালে পর পর দুই বছর দেশের সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে পুরস্কার লাভ করেন তিনি। ২০০৫ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্র্তৃক সেরা করদাতা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পান। ২০০৯ ও ১০ সালে সিআইপি মনোনীত হন।

সমাজসেবায় এক অনন্য মানবিক ছিলেন স্যামসন এইচ চৌধুরী। নীরবে মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করতেন। আত্মপ্রচার একেবারেই পছন্দ করতেন না। সোয়া কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাবনার ঐতিহাসিক অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরি সমৃদ্ধ জ্ঞানভাণ্ডারে পরিণত হয়েছে। অসাধারণ সৌজন্যবোধ ও অমায়িক ব্যবহারের জন্য তিনি ছিলেন সব মানুষের অতি প্রিয়ভাজন। তার চলনে-বলনে-কথনে ছিল মাধুর্য। তেমনি পোশাক-পরিচ্ছদে তিনি ছিলেন আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন। মানবিক গুণাবলি, সফল উদ্যোক্তা, কর্মীবান্ধব মনোভাব এক অনন্য উচ্চতায় স্থান করে নেন স্যামসন।
..
কীর্তিমানদের মৃত্যু নেই। অমর হয়ে থাকা স্যামসন এইচ চৌধুরী ২০১২ সালের এই দিনে ৮৬ বছর বয়সে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে ইহলোক ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে মন্ত্রিসভায় শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আদর্শ, নীতিবোধ, ত্যাগ, মহানুভবতা ও সেবামূলক নানামুখী কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সর্বস্তরের মানুষ তাকে অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করেন, তাকে স্মরণ করেন।
তথ্যসূত্রঃ দেশ রুপান্তর ডটকম(২১ জানুয়ারি, ২০২০)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *