সাফল্যের দোরগোড়ায় বাঙালি চা বিক্রেতা! সুরেলা কণ্ঠে গান গেয়ে রেকর্ডিং হল স্টুডিওতে, তুমুল ভাইরাল ভিডিও

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল নদিয়ার চাকদহের গোসাই পাড়ার বাসিন্দা বিপাশা দাস। লতাকণ্ঠী বিপাশার সুরের জাদুতে মন মজে ছিল নেট পাড়ার বাসিন্দাদের। ছোট চায়ের দোকান চালানো এই গৃহবধূর জীবন যুদ্ধের কাহিনী আর তার মধ্যেও গানের চর্চা আপ্লুত করেছে নেটিজেনদের।

সংসারের কাজ সামলে চায়ের দোকান চালান তিনি। সংসার চালাতে চায়ের দোকান সাজানোর রাস্তায় বেছে নিতে হয়েছে তাকে। হারমোনিয়াম, সেতার, তানপুরা কিংবা অন্য কোন বাদ্যযন্ত্র কোনও দিন বাজাননি তিনি।

শুধুমাত্র টিভি আর রেডিওর উপর ভরসা করে গান গাইতেন বিপাশা। গতবছর বিপাশা দাস ভাইরাল হয়েছিলেন সোশ্যাল ওয়ার্কার অতীন্দ্র চক্রবর্তীর সোশ্যাল মিডিয়া পেজের মাধ্যমে। তাঁর গান শুনে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন সকলে।

রানাঘাটের রাণু মন্ডলের গান আমরা সকলেই তো শুনেছি। রানাঘাটের স্টেশন চত্বরে বসে এক সময় গান গেয়ে ভিক্ষা করতেন রাণু। লোকে গান শুনে খুশি হয়ে কিছু দান করলেই পেট চলতো তাঁর।

সেই রাণু মন্ডল সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে পৌঁছে গিয়েছিলেন বলিউডে। তাঁর গান ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। তিনি মুম্বাইয়ের জনপ্রিয় গায়ক হিমেশ রেশমিয়ার সঙ্গে গানও রেকর্ড করেন।

এবার অতীন্দ্র চক্রবর্তীর মাধ্যমে ভাইরাল হলেন বিপাশা দাস। ছোট থেকে গান গাইতে ভালবাসতেন বিপাশা দাস। কিন্তু দরিদ্র অসহায় পরিবার হওয়ার কারণে তার বাবা পারেননি মেয়েকে গান শেখাতে।

তাই টিভি রেডিও থেকে শুনে শুনে গান গাইতে পছন্দ করতেন বিপাশা দাস। তাঁর গানের গলা একেবারে লতার মতো। সব গান শুনে শুনে তিনি শিখেছেন। গানের ভালবাসা থেকে তিনি বিয়ে করেছিলেন এক খোল বাদককে।

বর্তমানে চায়ের দোকান চালিয়ে টিনের চালের ঘরে সুখের সংসার বিপাশার। পাড়ার মোড়ে ছোট্ট চায়ের দোকান চালিয়ে সন্তানদের বড় করেছেন তিনি।

তাঁর স্বামী মাঝে মধ্যে খোল বাজানোর ডাক পান। আর অবসর সময় পেলেই স্বামী-স্ত্রী দু’জনে মিলে মেতে ওঠেন গান চর্চায়। এবার সেই বিপাশা দাস পৌঁছে গেলেন স্টুডিওতে। গানের দৌলতে তিনি আজ শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ার সেনসেশন নন।

এবার তিনি স্টুডিওতে গিয়ে গান গাইলেন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপাশার গান শেয়ার হতেই ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। অভাবের সংসার সামলেও তিনি যেভাবে গানকে আকড়ে ধরে বেঁচে রয়েছেন তা দেখে সত্যিই চোখ জুড়িয়ে যায়।

কোথাও গান না শিখেও যে এত ভাল গান করা যায় তা বিপাশাকে না দেখলে হয়তো কেউ জানতেই পারতাম না। এবার অতীন্দ্র চক্রবর্তীর হাত ধরে স্টুডিওতে পৌঁছে গিয়েছেন বিপাশা দাস। খুব শীঘ্রই আসতে চলেছে তার গান।

সুপ্রিয় সাউয়ের লেখা , জয়দীপ চক্রবর্তী নামক মিউজিক ডিরেক্টর এর তত্ত্বাবধানে গান গেয়েছেন বিপাশা দাস। নতুন এই গানটি যে বেশ ভালোই হবে তা একটি ভিডিওর মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন অতীন্দ্র চক্রবর্তী। বিপাশা দাস জানান, “আমার খুব ভালো লাগছে। এই জায়গায় আজ অতীন্দ্র আমাকে এনে দিয়েছে।

আমি বিশেষভাবে অতীন্দ্রকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। সুরকার এবং গীতিকারকে আমার প্রণাম জানাচ্ছি। যে তাদের তত্ত্বাবধানে এই গানটা গাইছি।” অতীন্দ্র চক্রবর্তী জানিয়েছেন, “আমি চাই বিপাশা দিন পরে অনেক বড় জায়গা পাক। ওনার মধ্যে সত্যিই প্রতিভা রয়েছে। আপনারা বিপাশা দির গান দেখেছেন আমার পেজে।

একাধিকবার পোস্ট করেছি এবং লাইভ করেছি। মিলিয়নের উপর ভিউ হয়েছিল। আমি চাই আগামী দিনে বিপাশা দি চা-বিক্রেতা থেকে একজন বড় শিল্পী হোক। এবং তার একটা নিজস্বতা থাকুক। “ইন্ডিয়া টোস্ট ২৪” নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলের সাম্প্রতিক পোস্ট করা হয়েছে এই ভিডিও। ইতিমধ্যেই ভিডিওটির দর্শক সংখ্যা সাড়ে পাঁচ হাজার। তার সাথে প্রচুর লাইক পড়েছে এবং কমেন্ট সেকশনে সকলেই বিপাশা দাসকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *