মসজিদ নির্মাণ করেছেন চিত্রনায়ক আলমগীর

নিজের জমি বিক্রি করে মসজিদ নির্মাণ করেছেন চিত্রনায়ক, প্রযোজক ও পরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ আলমগীর।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের গোপালপুর বাজারে এই মসজিদ নির্মাণ করেন। আলমগীর ওই গ্রামের কলিম উদ্দিন আহম্মেদ ওরফে দুদু মিয়ার ছেলে।

তার বাবা ছিলেন ঢালিউডের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ এর অন্যতম প্রযোজক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলমগীরকে স্থানীয়রা সিনেমাতেই বেশি দেখেছে। নিজ গ্রামে খুব কম যাতায়াত তার।

তার বাবা দুদু মিয়া মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণে খুবই আগ্রহী ছিলেন। বাবার ইচ্ছাতেই ২০০২ সালে ৯০ শতক জমি বিক্রি করে দোতলা মসজিদ নির্মাণ করেন চিত্রনায়ক আলমগীর।

গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধা রাবেয়া খাতুন। তিনি বলেন, আলমগীরের বাড়িতে কোনো গাড়ি ঢুকতে পারে না। প্রতিবেশিদের বাড়ির ভেতর দিয়ে হেঁটে যেতে হয়।

বাড়িতে তাদের কোনো ঘর নেই। আলমগীরের বাড়ির খালি জায়গার পাশে একটি একতলা বাড়িতে থাকেন তার চাচাতো ভাইয়েরা।

তিনি আরো বলেন, আলমগীরের পরিবারের অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধের সময় রাজাকাররা তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। এরপর থেকে পরিবারের সবাই ঢাকায় বসবাস করছেন।

অনেকদিন আগে আলমগীর একবার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ৯০ শতক জমি বিক্রি করে বাজারে মসজিদ নির্মাণ করে দিয়েছেন।

গ্রামে না গেলেও প্রতি বছর ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে এলাকার মানুষের জন্য সহায়তা-উপহার পাঠান তিনি। মসজিদের উন্নয়নের তদারকি করেন।

গোপালপুর বাজারের মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সৈয়দুজ্জামান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আগে চিত্রনায়ক আলমগীরের বাড়িতে একটি মক্তব ছিল।

সেই মক্তবে গ্রামের অনেকেই পড়ত। রাজাকাররা তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়ার পর সেখানকার ফাঁকা জমিতেই মসজিদটি নির্মাণ করেছেন আলমগীর। আগামীতে গ্রামে গিয়ে নতুন বাড়ি করার কথাও জানিয়েছেন আলমগীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *