পরীর সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, কোনোভাবেই তা গ্রহণযোগ্য না: বাঁধন

পরীমনিকে যে প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাতে আতঙ্কিত বাঁধন। তিনি বললেন, ‘আমার সহকর্মীর শারীরিক, মানসিক, ক্যারিয়ার—সব ধরনের সেফটি ও সিকিউরিটি নিয়ে আসলে চিন্তিত। নারী হিসেবে অবশ্যই আরও বেশি চিন্তিত এবং লজ্জিত।

এই ভেবে লজ্জিত যে স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসেও আমাদের বাংলাদেশে নারীর অবস্থান এখনো আসলে এই জায়গায় আছে। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমি আসলে আতঙ্কিত। যে আচরণগুলো তার সঙ্গে করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না।’

বাংলাদেশের জন্য অনন্য সম্মান বয়ে আনা ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবির অভিনয়শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন বলেন, পরীমনি বাংলাদেশের অনেক জনপ্রিয় একজন অভিনেত্রী। ‘স্বপ্নজাল’ সিনেমায় শুভ্রা চরিত্রে তাঁর অভিনয় দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন।

বাঁধন বললেন, ‘সে যদি কোনো অপরাধ করে থাকে, সেটার বিচার হবে। আমরা এখনো কিন্তু জানি না, কোন সুনির্দিষ্ট অপরাধের জন্য পুলিশ পরীমনিকে আটক করেছে।

দিনের পর দিন রিমান্ডে নিচ্ছে। যেসব কারণ দেখানো হচ্ছে, সেটাই যদি আসল কারণ হয়ে থাকে, সেটা তো আরও বেশি দুঃখজনক। ওই হিসাব

করলে এই প্রোডাক্টগুলো (মদ, এলএসডি) তার বাসা পর্যন্ত কীভাবে এল? কারা সাপ্লাই দিল? অন্যায়টা তো যারা এসব এনে দিয়েছে, তারা আগে করেছে। আগে পেছনের গল্পগুলো জানতে হবে।

সেই মানুষগুলোকে ধরতে হবে। আর এভাবে যদি ধরা হয়, বাংলাদেশের কত মানুষকেই ধরতে হবে। তাই আমার কাছে ওই জায়গাটা এখনো প্রশ্নবিদ্ধ আছে।’

বাঁধন আরও বললেন, ‘পরীমনি এই দেশের একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী। সমাজে তার আলাদা একটা অবস্থান আছে। গ্রেপ্তার এবং গ্রেপ্তারের পর যে ধরনের অসম্মান তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে, অতীত নিয়ে করা হচ্ছে,

মানুষ দিনের পর দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ধরনের চর্চা করছে, হয়তো বাড়িতে, নয়তো চায়ের দোকানে—এটা তো খুবই লজ্জার এবং আতঙ্কেরও বিষয়। একটা মেয়ে তার ব্যক্তিগত জীবনে কি করছে না করছে, এসব নিয়ে কথাবার্তা বলা মোটেও উচিত না।’

৪ আগস্ট পরীমনিকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। বর্তমানে তিনি কাশিমপুরে কারাগারে আছেন। তবে রেহানাখ্যাত এই অভিনয়শিল্পী জানালেন, পরীমনি যদি কোনো

অপরাধ করে থাকেন, তাহলে সেটাও দেশের প্রচলিত আইনে হবে। প্রমাণিত হওয়ার আগেই যেন অভিযোগকারীর সম্মানহানি না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *