কাঁটাতারের উপর দিয়ে শিশুকে বিমানবন্দরে ছুঁড়ে দিচ্ছেন মা

দেশ ছাড়তে চাওয়া হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেছে কাবুল এয়ারপোর্টেকাঁটাতারে ঘেরা কাবুল এয়ারপোর্ট বর্তমানে আমেরিকা ও ব্রিটেনের সৈন্যদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

কাঁটাতারে ওপারে ভিড় করে আছেন সাধারণ আফগানরা। রোববার তালেবান দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে তারা যে কোনো মূল্যে আফগানিস্তান ছাড়তে উদগ্রীব।

এরমধ্যে কাবুল বিমানবন্দরের একটি দৃশ্য নাড়া দিয়েছে। কাঁটাতারের উপর দিয়ে নিজ শিশুসন্তানকে কাবুল বিমানবন্দরে ছুঁড়ে দিচ্ছেন মা। চিৎকার করে বলছেন, আমারসন্তানকে অন্তত আপনারা বাঁচান।

এই দৃশ্য দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না বিদেশি সৈন্যরাও। কারণ ভিড়ের মধ্যে থেকে মাঝে মাঝে সন্তানকে ছুঁড়ে বিমাবন্দরেরমধ্যে ফেলছেন মায়েরা।

চিৎকার করে বলছেন, যাতে অন্তত ওই সন্তানকে কেউ নিরাপদে অন্য দেশে নিয়ে গিয়ে রাখে। খবর স্কাই নিউজের।এই দৃশ্যের কথা বলতে গিয়ে সাংবাদিকদের সামনে কেঁদে ফেললেন এক বৃটিশ সেনা কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘সকালে দায়িত্বে থাকাকালীন কাঁটাতারের ওপার থেকে সন্তানদের ছুঁড়ে ফেলতে দেখেছি। রাতেফিরে আমার পরিবারের কথা মনে পড়েছে। সন্তানদের কথা মনে পড়েছে।

বিশ্বাস করবেন না, আমি দেখেছি, কারো সন্তান ওই কাঁটাতারে আটকে গিয়েঝুলছে। এ দৃশ্য কোনোদিন ভুলতে পারব না।’ বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। ওই সেনা কর্মকর্তা জানান, মেয়েরা সন্তানকে ছুড়ে দিয়ে ভেতরে থাকা সেনাদের ধরতে বলছেন।

বলছেনঅন্য বিমানে তুলে দিতে। যদিও শিশুদের উদ্ধারের বিষয়ে আর সাহায্য করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে আমেরিকাতালিবানকাবুলদখনেওয়ারপরথেকেপ্রতিদিনইবিমানবন্দরে ছুটছেন সাধারণ মানুষ।

সেখানে হট্টগোল চলছে তিন দিন ধরেই। কাবুল বিমানবন্দরের ভেতরটা মার্কিন সৈন্যদের নিয়ন্ত্রণে এবং বাইরে অবস্থান নিয়েছেসশস্ত্রতালেবান।এদিকে রোববার থেকে বিমানবন্দর ও এর আশপাশে ১২ জন নিহত হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তালেবান বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান,বিমানবন্দর ও এর সামনে গুলিতে ও পদদলিত হয়ে ১২ জন নিহত হয়েছেন।যাদের ভ্রমণের অনুমোদন নেই তাদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করে তিনি বলেন‘বিমানবন্দরে আসাকারোর ক্ষতি

করতে চায় না তালেবান।’প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বৈধ কাগজপত্র আছে- এমন ব্যক্তিদেরও বিমানবন্দরে যেতে বাধা দিচ্ছে তালেবানরা। বিমানবন্দরের প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ করা তালেবান যোদ্ধারা বিমানবন্দরের দিকে জনস্রোত ছত্রভঙ্গ করতে আকাশে গুলি ছুঁড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *