Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / শেখ হাসিনা-মোদির বৈঠক নিয়ে চ’রম আগ্রহ চীন-পাকিস্তানের

শেখ হাসিনা-মোদির বৈঠক নিয়ে চ’রম আগ্রহ চীন-পাকিস্তানের

Advertisement

আগামী ১৭ ডিসেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই বৈঠক নানা কারনে অতন্ত্য তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এই বৈঠকের ব্যাপারে অতিরিক্ত আগ্রহ দেখাচ্ছে চীন এবং পাকিস্তান।

Advertisement

একাধিক কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘদিন পর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠক নানা কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে গত এক যুগে সম্পর্কের অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে।

এটি যেমন সত্যি তেমনি সাম্প্রতিক সময়ে দু`দেশের সম্পর্কের মধ্যে নানা অস্ব’স্তি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি, পাকিস্তানের সঙ্গে হঠাৎ করেই বাংলাদেশের সম্পর্কের স্বাভাবিক রূপ এবং ভারতের কিছু আ’গ্রা’সী নীতি দু`দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে টানাপোড়েন তৈরি করেছে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছেন।

যদিও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেছেন যে , ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে ঘ’নিষ্ঠ বন্ধু এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক রক্তের বাঁধনে বাঁধা। এই সম্পর্ক সবার আগে কিন্তু তারপরও বিভিন্ন ঘটনায় দু`দেশের সম্পর্কের টা’নাপো’ড়েনের চি’হ্ন পাওয়া যায়।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বিহারের নির্বাচনের সময় ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতৃবৃন্দ একরকম বাংলাদেশ বিরোধী জিকির তুলেছিলেন। এখনো সীমান্তে হ”ত্যা বন্ধ হয়নি।

বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়ে ভারত ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের উন্নতি নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তো’লপা’ড় চলছে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের উন্নতিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে নানারকম সম্পাদকীয় এবং প্রবন্ধ লিখছে।

এসব প্রেক্ষিতেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের যেই স্বাভাবিক ছ’ন্দ ছিল সেই ছন্দের প’ত’ন হয়েছে বলে কেউ কেউ মনে করেন। আর এ কারণেই এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বৈঠকের মাধ্যমে তিস্তার পানিচুক্তি সহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মীমাংসা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে ।তবে অনেক কূটনীতিক মনে করছেন এই বৈঠকটি হবে স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা ।

এ বৈঠকের মাধ্যমে খুব বড় কিছু হতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে না । আর এর প্রেক্ষিতে এই বৈঠকের ফলাফল এর উপর চীন , পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ সে ব্যাপারে তার কূটনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করবে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে । বিশেষ করে ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা গুলোতে ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে ।

তিস্তার বাংলাদেশ অংশে তারা জলাধার নির্মাণের প্রস্তাব ইতিমধ্যে অনুমোদন করেছে । এছাড়াও সীমান্ত অঞ্চল গু’লোতে তারা অর্থনৈতিক অঞ্চল করার পরিকল্পনা করছে । একাধিক কূটনীতিকরা মনে করছেন যে, ভারত-বাংলাদেশ বৈঠক এর যদি আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শেষ হয় কোন গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না আসে, তাহলে পরে চীন বাংলাদেশে আগ্রাসী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে ।

এই অঞ্চলে চীনের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটা বড় ফ্যাক্টর । আর এ কারণেই চীন দেখতে চায় ভারত বাংলাদেশের জন্য কি নিয়ে হাজির হয় ১৭ ডিসেম্বর । এই বৈঠকে যদি তেমন কিছু অর্জিত না হয় তাহলে পরে বাংলাদেশ- চীন সম্পর্ক কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কিছু প্যাকেজ নিয়ে আসবে বলে ধারণা পাওয়া গেছে ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সংগ্রাম করছে ,সে অর্থনৈতিক সংগ্রামে চীন অংশীদার হতে চায় । সেজন্য চীন বাংলাদেশের জন্য বেশকিছু অর্থনৈতিক প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে । এই ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে শেখ হাসিনার সঙ্গে মৌদির বৈঠকের পর ।

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করছে । বিশেষ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দুদফা টেলিফোন করেছেন । বিজয়ের মাসে পাকিস্তানের হাইকমিশনার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ।

এসব প্রেক্ষিতেই মনে করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশ ভারতের প্রভাব ক্ষুন্ন করতে চীন এবং পাকিস্তান অভিন্ন কৌশল নিয়ে এগুচ্ছে । আর এই কৌশল কিভাবে বিন্যস্ত হবে তা নির্ভর করছে মোদির এই বৈঠকের উপর । এই বৈঠকের পর পরই চীন এবং পাকিস্তান কূটনীতিক খাতে কিছু চমক নিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা ।

Advertisement

Check Also

মামা বিদেশ, আ’পত্তিকর অবস্থায় ধ’রা পড়ায় মামীর সঙ্গে ভাগ্নের বিয়ে!

Advertisement মামা’র প্রবাসে থাকার সুযোগ নিয়ে কলেজপড়ুয়া মামী-ভাগ্নের মধ্যে গড়ে উঠে প্রে’মের স’ম্পর্ক। ধীরে ধীরে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *