কখনও দেরি করে শুটিংয়ে আসেননি শাবানা আপা : রিনা খান

আমি শাবানা আপার সঙ্গে অনেক ছবিতে কাজ করেছি। তিনি কখনও দেরি করে শুটিংয়ে আসেননি”…… খল অভিনেত্রী হিসেবে ঢাকাই চলচ্চিত্রে যে কজন পরিচিতি পেয়েছেন তা আঙুল গুণে একনিমিষেই বলে দেয়া যায়।

তবে তাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা আর খ্যাতির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছেন রিনা খান। চার দশকের ক্যারিয়ারে এই অভিনেত্রীকে পাওয়া গেছে নানামাত্রিক কূট চরিত্রে।

বর্তমানে রিনা খান কাজ করছেন কয়েকটি ছবিতে। শনিবার (২৫ মার্চ) জাগো নিউজের সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল তখন রিনা খান ‘পুলিশবাবু’ নামের একটি ছবির শুটিংয়ে ছিলেন।

চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রথমেই তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রিনা খান বলেন, ‘এখনকার অধিকাংশ শিল্পীই কাজের প্রতি দায়িত্বশীল নয়। তারা শুধু অর্থ আর খ্যাতির পিছনে দৌড়াচ্ছে।

যারা কাজকে ভালোবাসছে না তারা এই ইন্ডাস্ট্রিতে বেশিদিন টিকবে না। চোখের সামনে অনেককেই ঝরে পড়তে দেখেছি।’ তিনি বলেন, ‘এখনকার যারা কাজ করছে অনেকেই সময়মতো শুটিংয়ে আসে না।

৭টায় শুটিংয়ে আসার কথা থাকলে সেটে আসে দুপুর ২টায়। এতে পরিচালক সমস্যায় পড়ছেন আর প্রযোজকের মাথায় হাত উঠছে! আমি শাবানা আপার সঙ্গে অনেক ছবিতে কাজ করেছি।

তিনি কখনও দেরি করে শুটিংয়ে আসেননি। ৭টায় কল টাইম থাকলে তার আগে সেটে এসে হাজির হতেন। বরং আমার আসতে মাঝে মধ্যে দেরি হলে স্যরি বলতাম।’

আরও বলেন, ‘চলচ্চিত্রের আগের সেই জৌলুস আর নেই। কারণ কাজের প্রতি যারা নিষ্ঠাবান, দায়িত্ববান ছিলেন তারা অনেকেই আর বেঁচে নেই, কেউবা চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে গেছেন। এখন নতুন যারা কাজ করছেন তারা যদি

চলচ্চিত্রকে ভালো না বাসে তবে এই শিল্প আগামীতে আরও তলিয়ে যাবে। আমি বললেই তো আর হবে না। প্রত্যেকের নিজের অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।

সিনিয়র যারা দূরে সরে গেছেন বা যাচ্ছেন তাদের আবার চলচ্চিত্রে ফিরিয়ে আনতে হবে। নতুনরা সিনিয়দের কাছে যেতে চায় না। আমাদের সময় কিন্তু এটা একদম হতো না।

আমরা সিনিয়দের সম্মান দিয়ে তাদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতাম।’ ৬ শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন রিনা খান। এর মধ্যে প্রায় ৫০টির মতো চলচ্চিত্রে ইতিবাচক কিংবা নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

বললেন, “আসলে আমার অধিকাংশ চলচ্চিত্রের কাজ ছিল খল অভিনেত্রী হিসেবে। অন্তত ৫০টি ছবিতে পজেটিভ চরিত্রে কাজ করেছি। এর মধ্যে নায়িকার ভূমিকায়ও অভিনয় করেছি বেশ কয়েকটি ছবিতে।

‘প্রেম যমুনা’, ‘মেঘ বিজলি বাদল’ এমনকি বুলবুল আহমেদের ‘মহানায়ক’ ছবিতেও আমি সহ-নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করেছি।” তবে এতসব ছবির ভিড়ে দেবাশীষ বিশ্বাসের ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’ ও মোহাম্মদ হান্নানের ‘পড়ে

না চোখের পলক’ ছবি দুটি তাকে ব্যাপক প্রশংসিত করেছে বলেন মনে করেন রিনা খান। তার ভাষ্য, “আমি চলচ্চিত্র থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কাটপিস আর বাংলা চলচ্চিত্রে ক্রমাগত নোংরামিতে বাধ্য হয়ে চলচ্চিত্র থেকে সরে দাঁড়াই। এর তিন বছর পরে অফার

পাই দেবাশীষ বিশ্বাসের ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’ ছবির। গল্পটিও আমার বেশ ভালো লেগে যায়। আর চলচ্চিত্রে ফিরে আসার এটি একটি কারণ। ‘পড়ে না চোখের পলক’ ছবিটি আমাকে তৃপ্তি এনে দিয়েছিল। এই দুটি ছবির চরিত্র আমার মনে দাগ কেটে থাকবে আজীবন।”

সেলুলয়েডের ফিতায় রিনা খান সুখের সংসারে বাগড়া দিলেও বাস্তব জীবনে তিনি ঠিক তার ভিন্ন। অভিনয়ের বাইরে পরিবার আর প্রবাসী সন্তানকে সময় দেয়া ছাড়া তেমন কিছু করেন না। তিনি বলেন, ‘আমার দুই ছেলে প্রকৌশলী। ওরা জার্মানি থাকে। এছাড়া নিকটাত্মীয়রা আমেরিকা থাকে। প্রতিদিন তাদের সঙ্গে কথা বলি। আর প্রতি বছর জার্মানি-আমেরিকা

গিয়ে বেড়িয়ে আসি। এছাড়া বাসার ছাদে ফুলের বাগান করেছি, সেটা দেখাশুনা করি। আর শুটিং থাকলে তো শুটিংয়ে চলে আসি।’বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাইলে রিনা খান বলেন, “এখন আমি চার-পাঁচটি ছবিতে অভিনয় করছি, এই মুহূর্তে

‘পুলিশবাবু’ ছাড়া বাকিগুলোর নাম মনে করতে পারছি না। সর্বশেষ আমার অভিনীত ‘১৬ আনা প্রেম’ নামের একটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। আগামীতে ‘সত্তা’, ‘দাগ’ ছাড়াও কয়েকটি ছবি মুক্তি পাবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published.