গ্রামে নেই টিভি-ইন্টারনেট, ‘রেডিও’ নিয়ে হাজির নায়ক রিয়াজ

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার অন্তর্গত পদ্মা নদীর পাড়ে অবস্থিত হরিহরদিয়া গ্রাম। পদ্মার ঢেউয়ের সঙ্গে সংগ্রাম করে বেচে থাকে এ অঞ্চলের মানুষ। যে গ্রামের কোনো বাড়িতে নেই টিভি। আর ইন্টারনেট তো দূরের কথা।

গ্রামের মানুষ বাজারে গিয়ে চায়ের দোকানে গিয়ে বসে দেখেন বাংলা ছবি। এর বাইরে টিভিতে ছবি দেখার সুযোগ খুব একটা হয় না তাদের। সেই গ্রামেই এবার স্বশরীরে হাজির হলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ।

এক কিলো হেটে গিয়ে বাজারের চায়ের দোকানে যে নায়কের ছবি দেখেন সেই নায়ককে বাস্তবে দেখে গ্রামবাসীর চোখ তো ছানাবড়া! রিয়াজকে এভাবে দেখতে পাবেন সেটা তাদের কাছে অকল্পণীয়।

এর আগে কখনও টেলিভিশনের পর্দায় দেখা নায়কদের নিজ চোখে দেখার সুযোগ হয়নি এ গ্রামের কোনো মানুষের। শুধু রিয়াজকেই দেখছেন না তারা। দেখছেন অভিনেত্রী জাকিয়া বারি মম,

প্রাণ রায় ও নাদের চৌধুরীকেও।কারণ তারা গঙ্গদরদিয়া গ্রামে এসেছেন অনন্য মামুন পরিচালিত রেডিও নামে একটি ছবির শুটিং করতে। থাকবেন ১ মার্চ পর্যন্ত।

সরেজমিনে দেখা গেলো গঙ্গাদরদিয়া গ্রামের চরের মানুষ এতটাই আন্তরিক পানি খেতে চাইলে শরবত খাওয়াচ্ছেন শুটিংয়ে আসা লোকদের। শুটিংয়ে পঞ্চাশোর্ধ এক মহিলাকে দেখা গেলো রিয়াজের কাছে ছুটে আসতে।

এসে বললেন, বাবা তোমাকে একবার ছুয়ে দেখতে চাই। রিয়াজও তাকে অনুমতি দিলেন। রিয়াজের গাল মাথায় হাত রেখে ছুঁয়ে দেখলেন তিনি। খুশিতে আত্মহারা হয়ে করে গেলেন আশীর্বাদ।

ভক্তদের এমন কাণ্ডে অনেকটা আবেগপ্লাপুত হয়ে গেলেন রিয়াজ। পরে ক্যামেরার সামনে বললেন, ‘শুটের মাঝে আমার মায়ের বয়সী যে হুট করে এসে আমার গালে হাত বুলিয়ে আদর করে দোয়া করলেন।

সেটা তো আপনারা দেখেছেন। চরে এমন বয়সী একজনের আমার প্রতি এই ভালোবাসা মুগ্ধ করেছে। যদিও উনার আদরের জন্য আমাকে নতুন করে আবার মেকআপ নিতে হয়েছে।

তাদের এমন ভালোবাসার জন্যই তো আজকে আমি রিয়াজ।’ বাসিন্দারা টেলিভিশনে নিজের গ্রামকে দেখতে পারবেন কি না, তা জানা না গেলেও পরিচালক জানিয়েছেন ‘রেডিও’ সিনেমার প্রিমিয়ার হচ্ছে আগামী ৭ মার্চ।

মুক্তি এখনও চূড়ান্ত নয়।রেডিওর গল্পটা ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণকে কেন্দ্র করে। এই ভাষণকে কেন্দ্র করে একটি গ্রামের গল্প বুনেছেন অনন্য মামুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.