Breaking News
Home / সারা দেশ / রিক্সা চালকের ঘরে একসঙ্গে তিন শিশুর জন্ম, কষ্টে দিনাতিপাত

রিক্সা চালকের ঘরে একসঙ্গে তিন শিশুর জন্ম, কষ্টে দিনাতিপাত

Advertisement

রঙ্গীন লুঙ্গির সাথে কালো শার্ট গায়ে। পায়ে প্লাস্টিকের স্যান্ডেল। গলায় রংচটা গামছা। মাথায় ক্যাপ। ছুটন্ত রিকশা চালকের আসনে এভাবেই দেখা যায় তাঁকে। নাম শফি আলম। সে বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর নামাপালা গ্রামের বাসিন্দা।

নদী ভাঙনের করাল গ্রাসে ভিটেমাটি হারিয়ে অভাবের তাড়নায় তারা পরিবার পরিজন নিয়ে এ এলাকায় বসবাস শুরু করে। শেরপুর উপজেলার ব্যস্ততম বাসস্ট্যান্ড শেরশাহ মার্কেট, ধুনটমোড়, বটতলা, তালতলা এলাকায় রিকশা চালিয়ে চলে তার সংসার।

এই আয়েই বৃদ্ধ বাবা মাসহ সাত সদস্যের পরিবার চালাতে তাকে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে। এভাবেই নিজের দুঃখ দূর্দশার কথা বলছিলেন রিক্সা চালক শফি আলম। মন খারাপের পালা শেষ হতেই মুখে হাসি নিয়ে শফি আলম বললেন, ঘরে জমজ তিনটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছে তার স্ত্রী।

এ সামান্য আয়ে কিভাবে সংসার চলে জানতে চাইলে আবারও চিন্তার রেখা দেখা দেয় শফি আলমের চোখে মুখে। সকালে রিকশা নিয়ে বের হন তিনি। কাজ শেষ করে অনেক রাতে বাড়িতে ফিরতে হয় তাকে।

সারা দিনের খাবারে বেশিরভাগ রুটি কলাই ভরসা। কাজের ফাঁকে শরীর চাঙা রাখতে কয়েক কাপ চা খান। কিন্তু প্রায় সময়ই টাকা বাঁচানোর জন্য দিনের খাবারে কাটছাঁট করেই চলেন শফি আলম।

কারণ, টাকা না বাঁচালে এত সদস্যের সংসার চলবে কিভাবে? সবে জন্ম নেয়া তিন জমজ কন্যা সন্তানের জন্য তার চিন্তা যেন আরো বেড়ে গেছে। বর্তমানে তিন জমজ মেয়ের পূষ্টিকর খাবারের যোগান দিতে গিয়ে স্ত্রী ও পরিবার পরিজনদের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন তুলে দেয়া দায় হয়ে পড়েছে শফি আলমের।

তার পরিবারের জন্য সরকারী সহযোগিতা প্রয়োজন যোগ করেন শফি আলম। শফি আলম আরো জানায়, রিক্সা চালিয়ে বাবা-মা স্ত্রী এবং দুই সন্তান নিয়ে ভালই চলছিল তার সংসার। সৃষ্টিকর্তা ঘর আলোকিত করে আবারও সন্তান দিলেও জমজ তিন তিনটি কন্যা সন্তান হওয়াই অনেকটা বিপাকে পড়েছে বলেই জানায় শফি আলম।

সন্তানের ভালবাসায় নিজেকে রাত দিন পরিশ্রম করতে হচ্ছে। তারপরও এতগুলো মানুষকে চালাতে খুবই সমস্যা হচ্ছে বলে জানান তিনি। রিক্সাচালক শফি আলমের চাওয়া এ উপজেলার সরকারী অফিসাররা যদি তার জন্য একটু সাহায্য সহযোগিতার ব্যবস্থা করত তাহলে তার সন্তানদের নিয়ে সংসার চালানো একটু হলেও সহজ হতো।

এ ব্যাপারে ৯নং ওয়ার্ড সদস্য আলহাজ্ব মকবুল হোসেন মোগলের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সরকারি ভাবে আমরা তো তেমন কিছু পাই না। তবে চেষ্টা করবো তার জন্য কিছু করার।

Advertisement

Check Also

আদনান ভালো আছেন শুনে অবশ্যই খুশি হয়েছি: ফারাজ করিম চৌধুরী

Advertisement গত পরশুদিন আমা’র ফেসবুকে একটি ভিডিও আপলোড করা হলে তার নিচে আমি কিছু কমেন্ট …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *