‘মানা শোনেননি, অ’সুস্থ হয়েও ইত্যাদির শেষ শুটিং করেন কাদের ভাই’

Sabbir Rahman 0

ক্যা’ন্সারে ‘ভুগে মা;রা গেছেন দেশের জনপ্রিয় অ’ভিনেতা আবদুল কাদের। শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর এভা’রকেয়ার হাসপাতা’লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা;রা যান তিনি।

তুমুল জনপ্রিয় এই অ’ভিনেতার মৃ;ত্যু;তে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শোবিজ অঙ্গনে। শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হু’মায়ূন আহমেদের লেখা ‘কোথাও কেউ নেই’ ধারা;বাহিক নাট’কে ‘বদি’ চরিত্রে অ’ভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন আব্দুল কাদের।

সেই আলোচনার মাত্রা এতটাই ছিল যে ‘বাকের ভাইয়ের’ বি’রু’;দ্ধে মিথ্যা সাক্ষী না দিতে আব্দুল কাদেরের বাড়ির চা;রপাশে পোস্টার লাগানো হয়েছিল। পোস্টারে লেখা ছিল, ‘বদি তুমি সাক্ষী দিলে, ভাসবে তুমি খালে-বিলে’।

এর পরের গল্প সবার জানা, এই চরিত্রে অ’ভিনয়ের জন্য দী;র্ঘদিন আব্দুল কাদেরকে পোহাতে হয়েছিল নানা মধুর যন্ত্র’ণা। নাট’কের বাইরে আব্দুল কাদের জনপ্রিয়তা পেয়ে’ছিলেন হানিফ সংকেতের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’-তে অ’ভিনয় করে।

দীর্ঘ তিন দশক এই জনপ্রিয় ম্যাগাজিনের মামা-ভা’গ্নে পর্বে অ’ভিনয় করেছেন তিনি। সবশেষ আব্দুল কাদের ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন ‘ইত্যাদি’র শুটিংয়ে, অক্টোবরের মাঝা’মাঝি সময়ে।

তাঁর হঠাৎ এমন চলে যাওয়া মেনে নিতে ক”ষ্ট হচ্ছে ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক, পরিচালক, লেখক ও প্রযোজক হানিফ সংকেতের। শনিবার সকালে গণমাধ্যমকে দেয়া তাৎক্ষণিক প্রতি;ক্রিয়ায় হানিফ সংকেত বলেন, “আমাদের জন্য খুবই ক’ষ্টের খবর। আম’রা গভী;রভাবে শো;কাহত। অক্টোবরের মা;ঝামাঝি সর্বশেষ তিনি ‘ইত্যাদি’র শুট করেছিলেন।

সে সময় তাঁকে খুব অ’সুস্থ দেখেছি। আমি তাঁকে বললাম, কী’ হয়েছে? উনি বললেন, ‘না, কিছু না; কিছু হয়নি।’ শেষে আমাকে বললেন, ‘আমা’র শ;রীরটা ভালো না, দোয়া করবেন।’ আম’রা তাঁর শট একটা-একটা করে বসিয়ে নিয়েছি। যাঁরা পর্বটা দেখেছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই বুঝতে পে;রেছেন।”

হানিফ সংকেত আরো বলেন, “কাদের ভাইয়ের সঙ্গে আমাদের প্রায় তিন দশকের স’ম্পর্ক। উনি অ’ত্যন্ত শৃঙ্খ’লাপূর্ণ জীবনযাপন করতেন। দীর্ঘ তিন দশক তিনি আমাদের মামা-ভাগ্নে পর্বটা করে;ছেন এবং তিনি খুব জনপ্রিয়। ভাবি কিছু’দিন আগে আমাকে বলেছিলেন… আম’রা তাঁকে মানা করেছি, অ’সুস্থতা ও করো’নার মধ্যে ‘ইত্যাদি’ না করতে। কিন্তু উনি বলেছেন, ‘না আমি ইত্যাদি করবই।’ তিনি শিডি;উলমতো আস;তেন, সময় নষ্ট করতেন না।”

আব্দুল কাদেরের সঙ্গে শেষ কথা প্রসঙ্গে হানিফ সংকেত বলেন, “তাঁর সঙ্গে আমা’র কথা হয়েছে, তিনি যখন চেন্নাই গেলেন। দেশে ফিরেও বিমানবন্দরে নেমে কথা হয়েছে ভিডিও-কলে। অনেক কা’ন্না করলেন। আমাকে বললেন, ‘হানিফ ভাই, জানি না আপনার সঙ্গে আর দেখা হবে কি না।

দোয়া করবেন যেন দেখা হয়।’আব্দুল কাদে;রের চলে যাওয়া অনেক বড় ক্ষতি উল্লেখ করে হানিফ সংকেত বলেন, ‘অন্যদের কী’ হয়েছে জানি না, তিনি আমাদের পরিবারের একজন। কাদের ভাই চলে যাওয়া মানে আমাদের পরিবারের একজন চলে যাওয়া।’

আবদুল কাদের ক্যা;ন্সারে আ’ক্রা;ন্ত ছিলেন অনেকদিন ধরে। ক্যা;ন্সার জটিল আকারে ছাড়িয়ে পড়েছিল সারা শ;রীরে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে তাকে গেল ৮ ডিসেম্বর ভা’রতের চেন্না;ইয়ের ভেলোর শহরের সিএমসি হাস;পাতা’লে নেয়া হয়। তবে তাঁর র’ক্তের হিমো;গ্লোবিন কমে যাওয়ায় কেমোথেরাপি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেন ভা’র;তের চিকিৎসকরা।

পরে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে রাজ;ধানী;রএভা’র কেয়ার হাসপালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চলছিল তাঁর চিকিৎসা। অবশে;ষে সব চিকিৎসার ঊর্ধ্বে চলে গে;লেন তিনি। নিভে গেল দারুণ উ;চ্ছ্বাসে ভরা এক প্রা’ণ। আব্দুল কা;দের হু’মায়ূন আহমেদের লেখা ‘কোথাও কেউ নেই’ নাট’কে ‘বদি’ চরিত্রে অ’ভিনয় করে তু;মুল জনপ্রিয়তা পান। এ ছাড়া তিনি হু’মায়ূ;ন আহমে;দের ‘ন;ক্ষত্রের রাত’ নাট’কে দুলা;ভাই চরিত্রেও দারুণ প্রশংসিত হন। তিনি বহু নাট’ক-সিনেমা ও টিভি শোতে অ’;ভিনয়ে মু;নশিয়ানা দেখিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *