দুই খানের বরফ গললো বিয়ের কার্ডে!

Sabbir Rahman 0

শীতের সন্ধ্যা! ঠিক এরমধ্যেই হঠাৎ উষ্ণতা ছড়ানো একটি কার্ড এলো; বিয়ের কার্ড। হালকা নড়ে বসলেন প্রাপক। পাশে বসা বন্ধুটি ফোনে ধ’রার চেষ্টা করলেন প্রেরককে! আর তাতেই দেড় বছরের বরফ গলার ইঙ্গিত পাওয়া গেল।

কার্ডটি প্রযোজক সেলিম খানের। তার মে’য়ের বিয়ে। এটি পাঠানো হয়েছিল ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের কাছে। গতকাল (৯ জানুয়ারি) বিয়ের কার্ডটি নিয়ে হাজির হয়েছিলেন সেলিমের পুত্র তরুণ নায়ক শান্ত খান।

এমন আগমনে মুগ্ধ হয়ে সেলিমকে ফোন করেন শাকিবের পাশে বসে থাকা বন্ধু প্রযোজক মো. ইকবাল। তখনই কথা হয় শাকিব ও সেলিম খানের। ২০১৭ সালে চলচ্চিত্র পরিবারের ১৬টি সংগঠন যখন শাকিব খানকে বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তখন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শাপলা মিডিয়া তাকে নিয়ে একের পর এক ছবি নির্মাণ শুরু করে।

তবে ‘শাহেনশাহ’ নামের ছবির সময়ই জটিলতা বাঁধে তাদের মধ্যে। শিডিউল ফাঁ’সানোর অ’ভিযোগে সেলিম খান চলচ্চিত্রের সমিতিগুলোতে শাকিব খানের বি’রুদ্ধে চিঠিও দেন। প্রস্তুতি নিয়েছিলেন মা’মলা করারও। এরপর প্রস্তাব পেলেও প্রতিষ্ঠানটির ছবি করতে অস্বীকৃতি জানান শাকিব।

তাদের মধ্যস্থতাকারী ইকবাল বলেন, ‘আমি ও শাকিব বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। তখনই ফোনে কথা হয় সেলিম খানের সঙ্গে। আশা করি, তাদের ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়েছে।’

আর শাকিব খান বলেন, ‘দেশীয় এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ছবিতে অ’ভিনয়ের জন্য ২০১৭-১৮ সালে পর পর তিনটি যৌথ প্রযোজনার ছবি ছেড়ে দিয়েছিলাম। তারা যেমন দুঃসময়ে আমা’র পাশে দাঁড়িয়েছিল, আমিও অল্প পারিশ্রমিকে তাদের কাজ করে দিয়েছি। যাই হোক, এখন আমাদের ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে। আবারও এই প্রতিষ্ঠানের নতুন ছবিতে অ’ভিনয় করবো।’

এদিকে জানা যায়, আগামী ১৫ জানুয়ারি সেলিম খানের মে’য়ের বিয়ে হবে। পাত্র স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সে (এসএসএফ) আছেন। মে’য়ের বিয়েটা ধুমধাম করে দিতে চান সেলিম। তাই ঘনিষ্ঠ সবাইকে দাওয়াত দিয়ে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে সেলিম খান বলেন, ‘পেশাদার কাজে শাকিবের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি থাকতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তো কোনও দ্বন্দ্ব নেই। তাই আমা’র মে’য়ের বিয়ের কার্ডটি ছে’লের মা’রফত তাকে পাঠিয়েছিলাম। তিনি গ্রহণ করে ফোনে কথা বলেছেন, খুব ভালো লেগেছে। নিশ্চয়ই আগামীতে শাকিব খানকে আমাদের প্রযোজনায় দেখা যাবে।’

শাপলা মিডিয়া প্রযোজিত ও শাকিব খান অ’ভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলো হলো- ‘আমি নেতা হব’, ‘চিটাগাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়া’, ‘ক্যাপ্টেন খান’ ও ‘শাহেনশাহ’। একই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ছবি ‘বিদ্রোহী’ এখনও মুক্তির অ’পেক্ষায় আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *