নৌকায় ভোট দিলে কেন্দ্রে আসবে, না দিলে আসার দরকার নাই’

বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সাজেদুর রহমান শাহীন গাবতলী পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. মোমিনুল হক শিলুকে ভোট না দিলে ভোটারদের কেন্দ্রে আসার দরকার নেই বলে হু’ম’কি দিয়েছেন।

এ জন্য তিনি নেতা–কর্মীদের ভাগ হয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের ‘নির্দেশ’ দিলে বলেছেন, ধানের শীষ নিয়ে যে কথা বলবে তাঁর ওপর গ’জব হবে। শনিবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গাবতলীর দাড়াইল বাজারে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর প্রচার কাজ উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তার ২ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সাজেদুর রহমান জেলার শাজাহানপুর উপজেলার খড়না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও।

এ ঘটনার পর গাবতলী পৌরসভায় বিএনপির সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া নিয়ে শ’ঙ্কা প্রকাশ করে ভোটারদের হু’ম’কি দেওয়ার ভিডিওর সিডিসহ মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) রিটানিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভি’যোগ করেছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রওনক জাহান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মেয়র প্রার্থী মোমিনুল হকের নির্বাচনী সভায় তাঁর পক্ষে একজন নেতার ভোটারদের হু’ম’কি দিয়ে বক্তব্যের সিডিসহ লিখিত অভি’যোগ পেয়েছেন।

নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ভ’ঙ্গের দায়ে নৌকার প্রার্থীসহ বক্তব্যদাতাকে কারণ দর্শানোর নো’টিশ পাঠানো হবে। ২ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, বগুড়ার আঞ্চলিক ভাষায় নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে সাজেদুর রহমান বলেন, ‘আপনারা প্রত্যেকটা ইউনিটের নেতা-কর্মীদের আনে সেন্টার ভাগ করে দিবেন।

সেখানে একজনকে কমান্ডার ব্যানা (বানিয়ে) দিবেন। সেই কমান্ডারের নেতৃত্ব চলবে, সেখানে শিলুক (নৌকার প্রার্থীর ডাক নাম শিলু) ভোট দিলে সেই লোক আসবে, শিলুক ভোট না দিলে তাঁর আসার দরকার নাই।’

এ সময় নেতা-কর্মীরা ‘ঠিক ঠিক’ বলে সমস্বরে চিৎকার করেন। এরপর সাজেদুর রহমান বলেন, ‘ঘরের লোক ঘরতই থাক।’ এরপর সাজেদুর রহমান বলেন, ‘কথাটা যেহেতু ঘরের ভিতর, সবাই আমার কর্মী, কর্মীদের এই কথাটা ম্যাসেজ দিলাম।

এটা করবেন আপনারা?’ এ সময় নেতা-কর্মীরা সমম্বরে ‘হ্যা’ ও ‘অবশ্যই’ বলে উত্তর দিলে সাজেদুর প্রশ্ন করেন, ‘এখন কী মার খাওয়ার সময় আছে?’ নেতা-কর্মীরা ‘না’ বলে জবাব দিলে তিনি বলেন, ‘মার দেওয়ার সময় আছে।

আমরা মারব ধানের শীষের মার্কা লিয়্যা যে কথা বলবে, তাঁর ওপর গ’জব হবে। কথাটা বুঝাতে পারছি?’ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এই নেতা আরও বলেন, যেভাবে গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করেছেন, সেভাবেই পৌরসভার মেয়রও করা হবে। তাঁরা মেয়রে দাঁড়িয়েছেন, মেয়র নেবেন। কথা একটাই। তারেক জিয়া এখানে দাঁড়াল, না খালেদা জিয়া দাঁড়াল, সেটা দেখার বিষয় না। নেতা-কর্মীরা যদি তাঁর নির্দেশমতো কাজ করতে পারেন তাহলে মেয়র হবে। না হলে এই গাবতলীতে কোনো প্রতিনিধি (আ. লীগ থেকে) হওয়ার সুযোগ নেই।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির ওই বক্তব্যের পর ধানের শীষের কর্মীদের নৌকার কর্মীরা নানাভাবে হু’ম’কি দিচ্ছেন, প্রচা’রণায় বাধাও দেওয়া হচ্ছে। বক্তব্যের বিষয়ে সাজেদুর রহমান বলেন, ধানের মধ্যে দুয়েকটা চিটা থাকে।  আর গাবতলী উপজেলায় আওয়ামী লীগের অবস্থাটা অনেক চিটার মধ্যে দুয়েকটি ধান থাকার মতো। সেখানে পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার কর্মীদের চাঙা রাখতে এমন বক্তব্য দিয়েছেন।

এটা নিজেদের নেতা–কর্মীদের উ’জ্জী’বিত রাখতে রাজনৈতিক কৌ’শলগত বক্তব্য। নিজেদের মধ্যে ঘরোয়া সভার এই বক্তব্যের ভিডিও তাঁদেরই কোনো কর্মী–সমর্থক ছড়িয়েছেন। ধানের শীষের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির ওই বক্তব্যের পর ধানের শীষের কর্মীদের নৌকার কর্মীরা নানাভাবে হু’ম’কি দিচ্ছেন, প্রচারণায় বা’ধাও দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ ভোটাররাও শ’ঙ্কি’ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *