Breaking News
Home / সারা দেশ / ৬০ বিঘা জমি চাষে বাধা প্রভাবশালীদের, কাঁদছেন বৃদ্ধ কৃষক

৬০ বিঘা জমি চাষে বাধা প্রভাবশালীদের, কাঁদছেন বৃদ্ধ কৃষক

Advertisement

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজে’লার পাকশিমুল ইউনিয়নে এক বৃ’দ্ধ কৃষক অন্তত ৬০ বিঘা জমি চাষ করতে গিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বাধার মুখোমুখি হয়েছেন বলে অ’ভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী ওই কৃষকের নাম রজব আলী (৯০)। পাকশিমুল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ওরফে কাছম আলী চেয়ারম্যান এবং বর্তমান মেম্বার মোতালিব মিয়া তার জমি চাষে বাধা দিচ্ছেন বলে অ’ভিযোগ করেছেন ওই কৃষক।

শনিবার (৩০ জানুয়ারি) ‘বিকেলে পাকশিমুল এলাকায় ফসলি মাঠে ভূঁইয়ার চরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে সবুজের সমাহার।মাঝে মাঝে বেশ কয়েকটি জমি অনাবাদি অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

পাকশিমুল এলাকার কৃষক রজব আলী (৯০) বলেন, ‘পাকশিমুল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ওরফে কাছম আলী চেয়ারম্যান এবং বর্তমান মেম্বার মোতালিব মিয়ার বাধায় আমা’র ৬০ বিঘা জমি চাষাবাদ করতে পারিনি।

তারা লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে দেশীয় অ’স্ত্রে সজ্জিত হয়ে গত ৫ জানুয়ারি সকালে গ্রামের পূর্ব দিকে ফসলি মাঠে ভূঁইয়ার চরের আমা’র সেচ স্কিম জোরপূর্বক দখল করে নেন। আমাকে ও আমা’র সন্তানদের জমি চাষাবাদ করতে মাঠে নামতে দিচ্ছেন না তারা।

আমা’র বীজতলা দখল করে নিয়ে কাছম আলী চেয়ারম্যান জোরপূর্বক আমা’র একটি জমি চাষ করে ফেলেছেন।’ কৃষক রজব আলী আরও বলেন, ‘জমি চাষ করতে না পারায় এ বছর আমি অন্তত এক হাজার মণ ধান থেকে বঞ্চিত হলাম।

আমা’র ঘরে ২১ জন মানুষ আছে। পুরো বছর তাদের নিয়ে খাব কী? আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার প্রার্থনা করছি।’ রজব আলীর দুই ছেলে সলতু মিয়া ও আংগু’র মিয়া অ’ভিযোগ করে বলেন, ‘কাছম আলী চেয়ারম্যান ও মোতালিব মেম্বারের স’ঙ্গে আমা’দের কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নেই।

আমা’দের বংশের লোকদের স’ঙ্গে তাদের জায়গাজমি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। এই দুজন গ্রামের প্রভাবশালী। সরকারি খাস জমিসহ এলাকার বিরোধপূর্ণ জমি গ্রাস করাই তাদের মূল পেশা ও নে’শা। তারা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আমা’দের সেচ স্কিম জোরপূর্বক দখল করেছেন। আমা’দের জমিগু’লো চাষাবাদ করতে দেননি।’

‘আমর’া এ বি’ষয়ে গত ২৬ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আ’দালতে মাম’লা দায়ের করেছি। আ’দালত মাম’লাটি পিবিআই পু’লিশকে ত’দন্তের জন্য দিয়েছেন; কিন্তু অর্ডারের কপি এখনো সেখানে পৌঁছেনি। এর আগে এ ঘটনায় কাছম আলী চেয়ারম্যানের পক্ষ নিয়ে একতরফা সালিশ-বৈঠক করেন অরুয়াইল এলাকার সালিশকারক আবু তালেব মিয়া, কুতুবউদ্দিন ভূঁইয়াসহ কয়েকজন। তারা অন্যায়ভাবে একটা রায় দেন; কিন্তু আমর’া এ রায় মেনে নিইনি।’

অ’ভিযোগের বি’ষয়ে জানতে চাইলে আবুল কাশেম চেয়ারম্যান বলেন, ‘কৃষক রজব আলীর অ’ভিযোগ সঠিক নয়। তাদের জমি চাষাবাদে আমি কোনো বাধা দেইনি। সেচ স্কিমের মিটার আমা’র নামে। ২২ বছর ধরে রজব আলী এ সেচ স্কিম চালিয়েছেন। এর আগে তিন বছর এ সেচ স্কিম আমি চালিয়েছি। কৃষকদের অনুরোধে সেচ স্কিম আমি ফিরিয়ে নিয়েছি। এখানে কোনো প্রকার চাঁদা চাওয়া হয়নি।’

মোতালিব মেম্বার বলেন, ‘আমা’র ব্যাপারে যেসব অ’ভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য নয়। রজব আলীর স’ঙ্গে আমা’র কোনো বিরোধ নেই।’ সরাইল থা’নার ভারপ্রা’প্ত কর্মক’র্তা (ওসি) আল মামুন মুহাম্ম’দ নাজমুল আহমেদ বলেন, ‘বি’ষয়গু’লো আমা’দের জানা নেই। কেউ আমা’দের কাছে এ বি’ষয়ে অ’ভিযোগ করেননি। আমর’া বি’ষয়গু’লোর খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

Advertisement

Check Also

মামা বিদেশ, আ’পত্তিকর অবস্থায় ধ’রা পড়ায় মামীর সঙ্গে ভাগ্নের বিয়ে!

Advertisement মামা’র প্রবাসে থাকার সুযোগ নিয়ে কলেজপড়ুয়া মামী-ভাগ্নের মধ্যে গড়ে উঠে প্রে’মের স’ম্পর্ক। ধীরে ধীরে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *