Breaking News
Home / বাংলা হেল্‌থ / গাড়ির দখলে যাবে ওসমানী উদ্যান

গাড়ির দখলে যাবে ওসমানী উদ্যান

Advertisement

প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের মধ্যে পার্ক করা যায় এক হাজারেরও কম গাড়ি। যদিও গাড়ি প্রবেশের পাস (স্টিকার) দেওয়া আছে ৯ হাজারের বেশি! তাই সচিবালয়ের ভেতর কোনো গাড়িই স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে না। এ অবস্থায় সচিবালয় ঘিরে গাড়ি পার্কিংয়ের নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা অনুমোদন পেলে রাজধানীর ওসমানী উদ্যান গাড়ির দখলে যাবে।

Advertisement

নতুন এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের পূর্বদিকে ওসমানী উদ্যানে দ্বিতল গাড়ি পার্কিং এবং জিরো পয়েন্ট ও পুরানা পল্টন মোড়ের মাঝামাঝি ‘মুক্তাঙ্গনে’ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে (ডিএসসিসি) এ প্রস্তাব দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, সচিবালয় এলাকা নানা কারণে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ায় গত বছরের নভেম্বরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বর্তমানের রমনা এলাকা থেকে শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর প্রায় অর্ধযুগ আগে থেকেই সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা চলছে। কিন্তু এত সংকটের পরও সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে এ এলাকা ঘিরেই পার্কিং ব্যবস্থার পরিকল্পনা করছেন সংশ্নিষ্টরা।

সচিবালয়ে গাড়ি পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত স্থান না থাকায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আসা-যাওয়া করতে যানজটেই নষ্ট হয় দীর্ঘসময়। সচিবালয়ের ১৭ দশমিক ৫৭ একর জমির মধ্যে অপরিকল্পিতভাবে বহু ভবন নির্মাণ করায় এ এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। কয়েক বছর ধরে সামান্য বৃষ্টিতেই সচিবালয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া সচিবালয়ের পশ্চিমে (লিঙ্ক রোড) পুরো রাস্তা অস্থায়ী পার্কিং জোনে পরিণত হয়েছে। এতে জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ সচিবালয়ের বাইরের অফিসগুলোতে চলাচলে ও যানজটে চরম দুর্ভোগে পড়ছে মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সচিবালয়ের আটটি ভবন ও তিনটি টিনশেডে ৩৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং ১১টি (ছোট-বড়) হোটেল বা ক্যান্টিন রয়েছে। একটি করে এটিএম বুথ, সাংবাদিক কক্ষ, ডে-কেয়ার সেন্টার এবং ক্লিনিকও আছে। কিন্তু আইন অনুযায়ী সচিবালয়ের কোনো ভবনেই নেই নিজস্ব গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ও ডিএসসিসির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের ৩০০ গাড়ি পার্ক করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা এখানকার মার্কেটের চারপাশে তীব্র যানজট সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে মেকানিক্যাল পার্কিং, টিনশেড ঘর সরিয়ে পার্কিং ব্যবস্থা, পরিবহন পুলকে আরও পার্কিংয়ের জন্য যথাযথভাবে কার্যকর করা ও যানবাহন কারখানার ভেতর নবনির্মিত ভবনের পাঁচটি ফ্লোর নির্মাণ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতি ইকবাল হাবিব সমকালকে বলেন, সচিবালয় এলাকার চারপাশে ওসমানী উদ্যান ছাড়া সবুজ কোনো জায়গাই নেই। আর মুক্তাঙ্গন হলো মুক্ত অঙ্গন। এগুলো জনগণের সম্পদ। সরকারি আমলারা কোনোভাবেই এগুলোর দখলে নিতে পারে না। জনগণের অধিকার হরণের পাঁয়তারা করলে জনগণ হাইকোর্টে রিট করতে পারে। তিনি বলেন, ভবনের সঙ্গে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সরকার এটি নিজেই মানছে না। আমলাদের গাড়ির চাপে পুরো সচিবালয় এখন ভারাক্রান্ত। সচিবালয়ের চারপাশের রাস্তা অস্থায়ী পার্কিং জোনে পরিণত হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের জন্য বিকল্প পার্কিং ব্যবস্থার পরিকল্পনা রয়েছে। বায়তুল মোকাররমের ওখানে সচিবালয়ের পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার চিন্তাভাবনা চলছে। ওসমানী মিলনায়তনের সামনে ওসমানী উদ্যান ও মুক্তাঙ্গনেও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা নিয়ে কথা চলছে। এসব জায়গায় গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা হলে আশা করি সব সমস্যার সমাধান হবে।

ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরী বলেন, ওসমানী উদ্যান ও মুক্তাঙ্গনে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা অনেক বড় পরিকল্পনা। এ বিষয়ে আরও চিন্তা করতে হবে।

ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-১৯৯৬-এর ১৩ ধারায় এক ও দুই উপধারায় গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে- প্রথমত, এই বিধির অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে ইমারতে গাড়ি আসা-যাওয়া ও পার্কিংয়ের জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে, পার্কিং স্থানে র‌্যাম্পের ব্যবস্থা থাকলে তা নূ্যনতম ১ :৮ চালবিশিষ্ট এবং রাস্তা থেকে অনূ্যন ৩.০০ মিটার দূরত্বে বানাতে হবে। দ্বিতীয়ত, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত এলাকার ক্ষেত্রে প্রত্যেক ইমারতে নূ্যনপক্ষে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ২৩ বর্গমিটার স্থান রাখা সাপেক্ষে ইমারতের আয়তন বা ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনুসারে গাড়ি পার্কিং স্থান রাখতে হবে।

কিন্তু ইমারত বিধিমালার এই পার্কিং ব্যবস্থা ও সরকারের বিকেন্দ্রীকরণ নীতি অনুসরণ না করে এবার সচিবালয়ের চারপাশে গাড়ি পার্কিংয়ের পরিকল্পনা চলছে। আমলাদের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সচিবালয় এলাকা মানুষের ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়বে, যানজটও তীব্র হবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক ও পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, অল্প জায়গায় অনেক ভবন নির্মাণ করায় এই এলাকার ভারবহন ক্ষমতা হারিয়ে গেছে। সচিবালয়ে চাপ কমানোর জন্য কিছু মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সরানো জরুরি হয়ে পড়েছে। ডিজিটাল যুগে পিয়ন টেবিলে টেবিলে ফাইল নিয়ে যাচ্ছে না। তাই সব কর্মকর্তা একসঙ্গে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। সচিবালয়ের কিছু মন্ত্রণালয় আগারগাঁও এবং পূর্বাচলে স্থানান্তর করা যেতে পারে। এতে সরকারের বিকেন্দ্রীকরণ নীতিরও বাস্তবায়ন হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী গাড়ির পাস দিলে প্রায় এক লাখ গাড়ির পাস ইস্যু করতে হবে। যদিও পার্কিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। যুগ্ম সচিব পর্যায়ের ৫০০ থেকে ৬০০ কর্মকর্তার গাড়ি পাসের আবেদন জমা আছে। বেসরকারিভাবে গাড়ি পাসের জন্য অনেক মানুষ নানাভাবে তদবির করছে। অথচ ১৯৭১ সালের পর সচিবালয়ে কোনো জায়গার পরিধি বাড়েনি। যদিও জনবল ও ভবন বেড়েছে অনেক। তাই সচিবালয় প্রবেশ নীতিমালা-২০১৪ সংশোধন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব (সচিবালয় নিরাপত্তা) মো. ফিরোজ উদ্দিন খলিফা বলেন, সচিবালয়ের গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা সমাধানের লক্ষ্যে কাজ চলছে। শিগগির সব ধরনের গাড়ির পাস বাতিল করা হবে। এরপর নতুন করে নবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি সবার জন্য ফি নির্ধারণ করা হতে পারে। সচিবালয় প্রবেশ নীতিমালাও সংশোধনের কাজ চলছে।

ইডেন ভবন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিম বলেন, সচিবালয় নিয়ে আমাদের নিজস্ব কোনো পরিকল্পনা নেই। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিবালয়ের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে যেভাবে কাজ করতে বলে, সেভাবেই কাজ করা হয়।

বায়তুল মোকাররমের পার্কিং নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব: বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশ ও উত্তর-পূর্ব পাশে দুটি পার্কিং আছে। উত্তর-পূর্ব পাশের পার্কিংয়ে দীর্ঘদিন ধরে পানি চুয়ে পড়ছে। ফলে এই গাড়ি পার্কিং এরিয়া জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের পার্কিংটি ভালো থাকলেও এবং ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করার পরও চালু করা হয়নি। এখন দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের পার্কিংটি সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মধ্যে প্রতি গাড়ির ভাড়া-সংক্রান্ত বিষয়ে একটি বৈঠকও হয়েছে।

বায়তুল মোকাররম ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি হাজি মো. ইয়াকুব আলী বলেন, বায়তুল মোকাররমের গাড়ি পার্কিং চালু করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছি; কিন্তু ইসলামিক ফাউন্ডেশন চালু করছে না। এখন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের তা ভাড়া দেওয়া বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। এখানে অনেক দোকান রয়েছে। তাই ক্রেতাকেই আগে প্রাধান্য দিতে হবে- তাদের গাড়িগুলো যেন ভালোভাবে আসা-যাওয়া করতে পারে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক (সমন্বয় বিভাগ) মুহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদার বলেন, ব্যবসায়ীরা ১০০ থেকে ১৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে গাড়ি রাখতে চান না। তারা রাস্তার পাশেই গাড়ি রাখেন। এ জন্য পার্কিংগুলো চালু করা হয়নি। আর বায়তুল মোকাররমের পার্কিংগুলো সরকারি পার্কিং। তাই সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রাখার বিষয়ে কথা চলছে।

Advertisement

Check Also

হা-র্ট অ্যা-টাকের এক মাস আগে থেকেই শরীরে যে ৭টি সিগনাল দেয়, সকল মানুষের জেনে থাকা জরুরী!

Advertisement আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন এবং এমনটা হওয়া খুবই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *