সমালোচনার পর সেই যুবকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিল আড়ং

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপক ভাবে সাড়া ফেলে। এই ভিডিওতে দেখা যায় এক যুবক তার দাড়ি রাখা নিয়ে কথা বলেন। এই যুবক চাকরি জন্য আড়ং এ গিয়েছিলেন।

তবে তার মুখে দাড়ি দেখা আড়ং থেকে বলা হয় তিনি যদি তার দাড়ি কা’টতে পারেন তবে তার চাকরি হবে। কিন্তু এই কথা শুনে যুবক বলেন তিনি এমন চাকরি করতে চান না যেখানে প্রিয় নবী (স.) এর সুন্নাত অনুযায়ী চলা যাবে না।

এই ভিডিও পর আড়ং এর ব্যাপক সমালোচনা দেখা দেয়। তবে এবার সেই যুবকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিল আড়ং। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া যুবক ইমরান হোসাইন লিমনকে ঢাকার তেজগাঁও শো-রুমে চাকরি করার প্রস্তাব দিয়েছেন হস্ত ও কারুশিল্প ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আড়ং (ব্র্যাক) কর্তৃপক্ষ।

মুখে দাড়ি থাকায় চাকরি না দেয়ার অভিযোগ ওঠেছিলো তাদের বিরুদ্ধে। তবে গণমাধ্যমে লিখিত দু:খ প্রকাশের পর লিমনকে মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) চাকরির প্রস্তাব দিয়েছে আড়ং।

বিষয়টি আড়ংয়ের মিডিয়া সেল থেকে জানিয়েছেন পাবলিক রিলেশন অফিসার রেদওয়ান আহমদ। তবে লিমনকে চাকরিতে নেওয়ার ক্ষেত্রে আড়ংয়ের সদিচ্ছা তৈরি হওয়ার পেছনে সিলেটের কিছু তরুণ আলেম ও ধর্মপ্রাণ মানুষের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

তাদের ’আন্দোলন’র জন্যই আড়ং কর্তৃপক্ষের টনক নড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দাঁড়ি থাকায় ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় আড়ংয়ের একটি শো-রুমে চাকরি দেওয়া হয়নি- এমন অভিযোগ তুলে গত শুক্রবার ফেসবুকে একটি ভিডিও আপলোড করেন ইমরান হোসাইন লিমন নামের এক যুবক।

৮ মিনিটের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরবর্তীতে ভাইরাল হয়ে পড়ে। ভিডিওতে লিমন বলেন- ’’সম্প্রতি আমি আড়ং, সেইলর, জেন্টেল পার্কসহ বেশ কয়েকটি শো-রুমে সেলসম্যান পদের জন্য সিভি ড্রপ করি।

শুক্রবার আমাকে আড়ংয়ের ইন্টারভিউর জন্য তেজগাঁওয়ে ডাকা হয়। ইন্টারভিউর সময় আমি মাস্ক পরা ছিলাম। সেখানে যারা ছিলেন, আমি তাদের সব প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে দিয়েছি। ইন্টারভিউর শেষ পর্যায়ে তাদের কথা ও ভঙ্গি দেখে মনে হয়েছে তারা আমাকে নিয়ে নেবেন, তারা আমার কথায় সন্তুষ্ট।

কিন্তু কথা শেষ করে চলে যাওয়ার সময় তারা আমাকে দাঁড়াতে বলেন। তারা হয়তো আমার মাস্কের পাশ দিয়ে গালে দাড়ি দেখতে পান। আমাকে তারা বললেন, ’মাস্কটা খোলো।’ আমি মাস্ক খুলতেই তারা বললেন, ’উই আর ট্রুলি স্যরি (আমরা সত্যিই দুঃখিত)।’ আমি বললাম, ’কেন, কী হয়েছে?’ উনারা বললেন, ’আপনাকে আমরা কনফার্ম করতে পারছি না। আপনি যদি দাড়িটা ক্লিন শেভ করতে পারেন তাহলে আপনার জবটা আমরা এখানে কনফার্ম করলাম ইনশাআল্লাহ।’

লিমন বলেন, আড়ংয়ের লোকজন আমাকে বলেন, ’আমাদের আড়ংয়ের রুলস হচ্ছে সেলসম্যানের জব করতে হলে আপনাকে ক্লিন শেভ করতে হবে।’ তাদের এ কথা শুনে আমি হ’ত’ভ’ম্ব। আমি ফিরে আসার সময় আমি তাদেরকে বলি, তাহলে আমি এই জবটা করবো না। আমি একথা বলে চলে আসছিলাম। তবে আমি আবারও তাদের কাছে ফিরে যাই। তাদেরকে বলি যে, আমি খুবই নিডি (অ’ভা’ব’গ্র’স্ত)। আমাকে কি কোনোভাবে চাকরিটা দেয়া যায়? তারা বলে, ’না এটা আড়ংয়ের রুলসে নাই।’

এদিকে, ভিডিওটি ভাইরাল হবার পর ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় উঠে। সেই সাথে সিলেট নগরীর জেল রোডস্থ আড়ং শো-রুমের সামনে সোমবার সকাল ১১টায় ’সিলেটের সচেতন আলেম সমাজ’র ব্যানারে মানববন্ধন ও বি’ক্ষো’ভ কর্মসূচি পালনের ডাক দেয়া হয়। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার সকাল ১১টায় জেল রোডস্থ আড়ং শো-রুমের সামনে মানববন্ধন ও বি’ক্ষো’ভ প্রদর্শন করে ঢাকার ঘটনার প্রতিবাদ জানান সিলেটের কয়েক শ আলেম, শিক্ষার্থী ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান।

কর্মসূচি পালনকালে বক্তারা বলেন, ইসলামকে অবমাননা করে পৃথিবীতে আবু জাহেল, নমরুদ, ফিরাউন ওরা কেউ টিকতে পারেনি। সময়ের পালাবদলে তাদেরকে ’’ধ্বং’’স’’ হতে হয়েছে। আমাদের প্রিয় নবী (স.) এর সুন্নাত দাড়ি নিয়ে তামাশা করায় আড়ংও ধ্বংস হবে যাবে। তাই অবিলম্বে আড়ং কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এমন অবস্থান এবং মনোভাব থেকে সরে আসতে হবে। নতুবা দেশবাসীকে নিয়ে আড়ংয়ের সকল পণ্য বয়কটের ডাক দেয়া হবে।

অপরদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আড়ং কর্তৃপক্ষ সোমবার একটি লিখিত বিবৃতি প্রদান করেন। সেই বিবৃতিতে ওই ঘটনার জন্য দু:খও প্রকাশ করেন তারা। এছাড়াও ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর যাতে না ঘটে- সে ব্যাপারে তারা সতর্ক থাকবেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।

সর্বোপরি মঙ্গলবার তেজগাঁও শো-রুমে লিমনকে চাকরি করার অফার দেন আড়ং কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে আড়ংয়ের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা রেদওয়ান আহমদ বলেন, ওই যুবককে ফোন করে চাকরির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তিনি চাইলে তেজগাঁও শো-রুমে চাকরি করতে পারবেন। আড়ংয়ের চাকরির নীতিমালায় দাড়ি বিষয়ক কোনো নেতিবাচক শর্ত নেই উল্লেখ করে রেদওয়ান আহমদ বলেন, সেদিন ইন্টারভিউ বোর্ডে যারা ছিলেন তাদেরকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। প্রয়োজনে শা’স্তি’র আওতায় নিয়ে আসা হবে। সূত্র: বিডি প্রতিদিন

এদিকে, যুবকের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি অনেকে আড়ং এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদও করেছেন। তবে অবশেষে আড়ং সেই ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে। আর তারা এই যুবককে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছে। তবে যুবক আড়ং এ আর চাকরি করবেন কিনা এ বিষয়ে এখনো তার কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.