পুলিশের কাছে মুনিয়ার ডায়েরি, কী আছে এতে?

রাজধানীর গুলশানে একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়ার (২১) ঝু”ল”ন্ত ম”র”দে”হ উ’দ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মা;মলার এজা;হারে চা;ঞ্চ;ল্যকর তথ্য দিয়েছেন তার বড় বোন ও মা;মলার বাদী নুসরাত জাহান।

নুসরাত পু;লিশের কাছে মুনিয়ার লেখা একটি ডায়েরি জমা দিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এ ডায়েরি থেকে আরো তথ্য বেরিয়ে আসবে। মা;মলার এজা;হারে উল্লেখ করা হয়, পু;লিশ এসে ও”ড়”না কে”টে মোসারাতের মৃ”ত”দে”হ নামায়।

আলামত হিসেবে আ;সামির সঙ্গে ছবি, আ;সামির সঙ্গে প্রে;মের সম্পর্ক নিয়ে লেখা ডা;য়েরি ও তার ব্য;বহৃত দুটি মু;ঠোফোন নিয়ে যায় পু’লিশ। মা;মলার এজা;হারে আরো বলা হয়, মোসারাত জাহান (২১) মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী।

দুই বছর আগে মা;মলার আ;সামি সায়েম সোবহান আনভীরের (৪২) সঙ্গে মোসারাতের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে তারা বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় দেখা করতেন এবং সব সময় মোবাইলে কথা বলতেন। এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

২০১৯ সালে মোসারাতকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আ;সামি রাজধানীর বনানীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। সেখানে তারা বসবাস করতে শুরু করেন। ২০২০ সালে আ;সামির পরিবার এক নারীর মাধ্যমে এই প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারে।

এরপর আ;সামির মা মোসারাতকে ডেকে ভ”য়”ভী”তি দেখান এবং তাকে ঢাকা থেকে চলে যেতে বলেন। আ;সামি কৌশলে তার (বাদী নুসরাতের) বোনকে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেন এবং পরে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন।

সর্বশেষ গত ১ মার্চ মোসারাতকে প্ররোচিত করেন আ;সামি। তিনি বাসা ভাড়া নিতে বাদী নুসরাত ও তার স্বামীর পরিচয়পত্র নেন। ফুসলিয়ে তিনি মোসারাতকে ঢাকায় আনেন। তিনি গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কে বাসা (ফ্ল্যাট-বি-৩) ভাড়া নেন।

ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে আ;সামি ও তার (বাদীর) বোনের স্বামী-স্ত্রীর মতো ছবি তুলে তা বাঁধিয়ে রাখা হয়। আ;সামি বাসায় এলে কক্ষটি পরিপাটি করে রাখা হতো। বোনের মাধ্যমে মা;মলার বাদী জানতে পারেন, আ;সামি তাকে বিয়ে করে বিদেশে স্থায়ী হবেন।

কারণ, দেশে থাকলে আ;সামির মা–বাবা আ;সামিকে কিছু না করলেও তার বোনকে মেরে ফেলবেন। গত ১ মার্চ থেকে আ;সামি মাঝেমধ্যে ফ্ল্যাটে আসা-যাওয়া করতেন।

বাদী এজাহারে আরো বলেন, ২৩ এপ্রিল মোসারাত তাকে ফোন করেন। মোসারাত তাকে বলেছেন, আনভীর তাকে বকা দিয়ে বলেছেন, কেন তিনি (মোসারাত) ফ্ল্যাটের মালিকের বাসায় গিয়ে ইফতার করেছেন, ছবি তুলেছেন।

ফ্ল্যাটের মালিকের স্ত্রী ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেছেন। এ ছবি ‌পিয়াসা দেখেছেন। পিয়াসা মালিকের স্ত্রীর ফেসবুক বন্ধু। এখন পিয়াসা তার মাকে সবকিছু জানিয়ে দেবেন। তিনি (আ;সামি) দুবাই যাচ্ছেন, মোসারাত যেন কুমিল্লায় চলে যান।

আ;সামির মা জানতে পারলে তাকে (মোসারাত) মে”রে ফে”ল”বে”ন। দুদিন পর ২৫ এপ্রিল মোসারাত তাকে ফোন করেন। ওই সময় তিনি কান্নাকাটি করে বলেন, আনভীর তাকে বিয়ে করবেন না, শুধু ভো’গ করেছেন। আ;সামিকে উদ্ধৃত করে মোসারাত বলেন, আ;সামি তাকে বলেছেন, তিনি (মোসারাত) তার শত্রুর সঙ্গে দেখা করেছেন। মোসারাতকে তিনি ছাড়বেন না।

মোসারাত চিৎকার করে বলেন, আ;সামি তাকে ধোঁ’কা দিয়েছেন। যেকোনো সময় তার বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তারা (বাদী নুসরাতের পরিবার) যেন দ্রুত ঢাকায় আসেন। নুসরাত তার আত্মীয়স্বজন নিয়ে বেলা দুইটার দিকে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় রওনা দেন। আসার পথে বারবার মোসারাতের ফোনে ফোন করেন কিন্তু তিনি আর ফোন ধরেননি। গুলশানের বাসায় পৌঁছে দরজায় নক করলে ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে নিচে নেমে আসেন। তারা নিরাপত্তারক্ষীর কক্ষ থেকে বাসার ইন্টারকমে ফোন করেন। পরে ফ্ল্যাটের মালিকের নম্বরে ফোন দিলে মিস্ত্রি এনে তালা ভে’ঙে ঘরে ঢো’কা’র পরামর্শ দেন। মিস্ত্রি ডেকে তালা ভে’ঙে ভেতরে ঢো’কা’র পর তিনি দেখেন, তার বোন ও”ড়”না পেঁ”চি”য়ে শোয়ার ঘরের সিলিংয়ে ঝু”লে আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.