মাত্র ৩ লক্ষ টাকায় যেভাবে দোতলা বাড়ি বানাবেন, রইলো স্টেপ বাই স্টেপ পরামর্শ!

নিজের বাড়ি তৈরীর স্বপ্ন সকলের মনেই কমবেশি অবস্থায় থাকে। স্বল্প খরচে পুষ্টিকর খাদ্য কে না চায়! ঠিক তেমনভাবেই বাড়ি তৈরি করার ক্ষেত্রে অল্প খরচে কিভাবে সুবন্দোবস্ত করা যায় সেই বিষয় নিয়ে আজ আমরা আলোচনা করবো।

বাড়ি তৈরীর ক্ষেত্রে একসাথে অনেকগুলো বিষয় মালিককে মাথায় রাখতে হয়। কিভাবে বাড়ি বেশিদিন টিকিয়ে রাখা যাবে, কিভাবে খুব অল্প জিনিস ব্যবহার করে মজবুত করা যাবে প্রভৃতি ব্যাপার মানুষকে চিন্তায় ফেলে দেয়।

তাহলে যদি আপনি সম্প্রতি বাড়ি বানাতে চলেছেন বা ভবিষ্যতে আপনার বাড়ি তৈরি করার কোনো রকম পরিকল্পনা থেকে থাকে আমাদের এই প্রতিবেদনটি হাতে কিছুটা সময় নিয়ে মনোযোগ সহকারে পড়তে পারেন।

বর্তমানে তৃতীয় বিশ্বের কিছু দেশে নানান ধরনের উন্নত প্রযুক্তি এসেছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাপ নিরোধক, পরিবেশবান্ধব, হাল্কা,দ্রুত স্থাপনযোগ্য এক্সপ্যান্ডেড পলিস্টিরিন স্যান্ডউইচ (ইপিএস) প্যানেল ব্যবহার করে বানানো যাবে বাড়ি।

এমনকি এই ক্ষেত্রে বাড়ি তৈরির জন্য সময় অনেকটাই কমে যাচ্ছে।৪—৫ জন শ্রমিক ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পরিশ্রমেই একতলা বাড়ি নির্মাণ করতে পারে। শুধুমাত্র সময় না অর্থের খরচও অনেকটাই কম।

আয়তন অনুযায়ী ২ লাখ থেকে ৭ লাখ টাকা থেকে ১১ লাখ টাকা পর্যন্ত নুন্যতম খরচ হতে পারে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে এই প্রযুক্তিতে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।

অ্যাডভান্সড ডেভেলপমেন্ট টেকনোলজিস ঢাকার অদূরে মুন্সিগঞ্জে ৫৫ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে কারখানা স্থাপন করেছে। এতে প্রতিবছর প্রায় ৬০ লাখ এসএফটি শিট ও ৫ লাখ বর্গফুট এক্সপ্যান্ডেড পলিস্টিরিন স্যান্ডউইচ (ইপিএস) প্যানেল তৈরি করে।

এ ধরনের প্যানেল বিভিন্ন ধরনের শিল্পস্থাপনা, অবকাঠামো, ওয়ার্ক স্টেশন এনক্লোজার এবং শেড, ওষুধ কোম্পানি, পোশাক শিল্প ইন্ডাস্ট্রিজ, কোল্ড স্টোরেজ,শব্দনিরোধী মিলনায়তন, থিয়েটার হাউস,

উপকূলীয় অঞ্চলে আশ্রয়কেন্দ্র, ভাসমান আবাসনসহ তাপ সহনীয় এবং শব্দহীন দেয়ালের জন্য পরিবেশগতভাবে আদর্শ ও উপযোগী। বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য জানিয়ে রাখি,২০১৩ সাল থেকে কোম্পানিটি বিভিন্ন ধরনের শিল্পস্থাপনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ করছে।

অ্যাডভান্সড ডেভেলপমেন্ট টেকনোলজিসের কর্মকর্তা আশিকুল আলম এই নতুন প্রযুক্তি প্রসঙ্গে জানিয়েছেন,”এই পদ্ধতিতে বাড়ি তৈরি করলে ইটের চেয়ে অল্প খরচ হবে। ভবন তৈরির সময় প্যানেল টু প্যানেল হুকিং সিস্টেমে লাগানো হয়।

ফলে এটি সহজে প্রতিস্থাপনযোগ্য। ইউরোপ থেকে আমদানিকৃত কাঁচামালের মাধ্যমে ইপিএস প্যানেল তৈরি করা হয়”। সুবিধার দিক থেকে দেখতে গেলে এক, অল্প খরচে এবং অল্প সময়ে বাড়ি তৈরী করা সম্ভব।দুই,

টিনের পরিপূরক হিসাবে এসএফটি ইপিএস প্যানেল ব্যবহার করা হয় যার ফলে ঘর থাকে একদম এসির মতো ঠাণ্ডা। তিন,ইপিএস শিটের ওজন ৭৫০ গ্রাম হওয়ার কারণে বাড়ির মালিক ইচ্ছে করলেই বাড়িটি খুলে নতুন জায়গায় পুনঃনির্মাণ করতে পারবে। আমাদের এই বিশেষ প্রতিবেদন টি কেমন লাগল তা জানাতে অবশ্যই ভুলবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.